মতামত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মতামত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে একজন বাংলাদেশীর মানসিক অবস্থা

গত তিনটি বছর বাংলাদেশের খবরা-খবর তেমন রাখিনা বললেই চলে। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ইঁদুরের ব্রেইন সার্জারী, ব্রেইন রেকর্ডিং আর তাদের আচরণ পরীক্ষণের মাধ্যমে কিভাবে মস্তিষ্ক কোন নতুন জিনিস শেখে তার গবেষণা করার কাজেই মূলত মনোনিবেশ করেছিলাম। অনেক নতুন টেকনিক, প্রকৌশল এবং তত্ত্বীয় ব্যপার শিখতে হয়েছে নতুন করে।

সম-সাময়িক সময়ে আমার সব চিন্তা চেতনা মূলত ছিল বিজ্ঞান এবং গবেষণা ঘিরেই। তার উপর আমার ল্যাবের কিছু সমস্যা, ল্যাব প্রধানের ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যা এবং আমার কিছু মানসিক সংকট সব কিছু মিলিয়ে বেশ কঠিন সময়ের ভিতর দিয়েই যেতে হয়েছে। অবস্থা এখন অনেক ভাল। কিছু দারুণ আবিষ্কার হয়ে গেছে এর মধ্যে, যেগুলো লেখার কাজে এখন সময় পার করছি।

এসবের ভিতর গত নির্বাচনের সময় যখন দেশে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম, একদিন হঠাৎ জানতে পারি দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে। তাই ২০২৩ এর ডিসেম্বরে দেশে যাইনি। নির্বাচনের পর ২০২৪ এর জানুয়ারীতে দেশ থেকে ঘুরে আসি যদিও।

ডিসেম্বর থেকে সোস্যাল মিডিয়ায় দেশের খবর নিয়মিতই রাখা শুরু করি। ঐ সময় বেশিরভাগ খবরই থাকত দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে। তার সাথে থাকত এইসব প্রকল্পে দূর্নীতির খবর। বিভিন্ন নতুন স্থাপনা দেখে ভাল লাগত আবার দুর্নীতির খবর শুনলে খারাপ লাগত।

জুলাইমাসে একদিন হঠাৎ জানতে পারলাম দেশে কোটা বিরোধী আন্দোলন হচ্ছে। সাধারণভাবে নারী, জেলা, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র জাতি সত্তা ও মুক্তিযোদ্ধা কোটার পক্ষে হলেও আমি কখনই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা নাতি-নাতনিদের কোন কোটার পক্ষে নই। তাই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ছিল। হাইকোর্টের ফাইনাল রায়টি মোটামোটি মন্দের ভাল সমাধান। কিন্তু এর মধ্যে শক্ত হাতে আন্দোলন দমনের মাধ্যমে যে প্রাণহানি হয় তা জানতে পারি, একদিন বাড়িতে ফোন দিতে গিয়ে দেখি ফোন যাচ্ছে না। দেশে ইন্টারনেট কানেকশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আমি ভাবলাম দেশে কি যুদ্ধ হচ্ছে নাকি। শান্তির সময়ে (অর্থাৎ অন্য কোন রাষ্ট্রের আক্রমণব্যতীত) দেশের ইন্টারনেট বা তথ্য প্রবাহে বাধা কোন ভাবেই কাম্য নয়। এটা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বা পাবলিক ফোরামে যা খুশি তাই বলার স্বাধীনতার থেকে অনেক বেশি মৌলিক।

তারমানে এই কিন্তু নয় যে, রাষ্ট্র কোন অবস্থাতেই কারও মত প্রকাশের বাধা সৃষ্টি করতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক সময় গোপনীয়তার প্রয়োজন। তবে সাধারণ জনজীবনের ব্যপার, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক আলোচনায় রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ যত কম থাকবে ততই ভাল।

কিন্তু জুলাইয়ের আন্দোলনে সরকারি পক্ষের কঠোর দমনে বহু ছাত্র ও সাধারণ জনগণের প্রাণহানি হয়। যা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তার উপর পুলিশ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পাণহানি তো আছেই। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বল-প্রয়োগের অধিকার আছে। এখন প্রশ্ন হল যতটুকু প্রয়জন তার থেকে কত বেশি বল প্রয়োগ করা হয়েছে? বিচার-বিভাগীয় ও  আন্তর্জাতিক তদন্তে সেটা অবশ্যই বেরিয়ে আসবে। বিবিসির রিপোর্টে পুলিশের গাড়ি থেকে একজনের মৃতদেহ সরানোর দৃশ্য ছিল খুবই বিভৎস। এসব খবর যে আমাকে কত মানসিক পীড়া দিয়েছে তা বলার মত নয়। একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে আমি শুধু বিদেশ থেকে শান্তির জন্য আশা করছিলাম।

ব্যক্তিগতভাবে আমি অধিকারের লড়াইয়ের পক্ষে। অর্থাৎ অধিকারের জন্য জনগণের আন্দোলন ভাল কিছু বয়ে আনে। তবে আমি বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতনের ব্যপারে তেমন উৎসাহী নই যদিনা কোন রাজনৈতিক দল এর নেত্রীত্বে থাকে)। কারণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব না থাকলে সরকার পতনে এক ধরণের ক্ষমতার শূণ্যতা তৈরি হয়। এতে অরাজকতা তৈরি হয়। তাই আমি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির নেত্রীত্বে সরকার পতনের আন্দোলন কে বেশি সমর্থণ করি।

কিন্তু বাংলাদেশের গুরুতর সংকটের বাস্তবতায় যা হয়েছে তাই এখন বর্তমানের বাস্তবতা। এখন যে নতুন ভাবে বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে সেটা বেশ ইন্টারেস্টিং। ছাত্রদের দাবি-দাওয়ার মাধ্যমের নিরপেক্ষ সরকার দেশ চালাচ্ছে, ইতিহাসে এমন নজির যেহেতু নেই তাই বর্তমান অবস্থার নতুনত্ব অনেক। যেকোন নতুন একই সাথে দুটি বিষয় নিয়ে আসে ঝুঁকি এবং সুযোগ। বাংলাদেশে কোনটা হবে বলার সময় এখনও আসেনি। তাই আমার মনে একই সাথে আশংকা ও আশা দুটিই আছে।

বলতেই হবে মানসিকভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে চিন্তা করা গত ডিসেম্বর মাস থেকে অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। বিদেশে থেকে এতটুকুই চাই - দেশের মানুষ ভাল থাকুক, শান্তিতে থাকুক, মাথা উঁচু করে থাকুক।

মানুষ কি আসলেই বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন একটা প্রাণী?

যখন আমরা একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি তখন বিচারবুদ্ধির ভূমিকা কতটুকু আর আবেগের ভূমিকা কতটুকু?
প্রতিদিনই আমরা সাধারণত অনেকগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকি। এই যেমন ঘুম থেকে ওঠার পর ঠিক কোন কাজ করব। সকালে কি খাব। অফিসে যাব কি যাব না। অফিসের পর কি করব। কাউকে ফোন দিব কি দিবোনা।
 ছবিতেঃ ধূসর ভাজযুক্ত অংশই মস্তিস্কের নিওকর্টেক্স, বর্ণযুক্ত অংশ লিম্বিক সিস্টেম।

শুরুর আগেই শেষ হয়ে গেল ২০২০

গত কয়েকবছর ধরে ফেসবুক এবং আমার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে কিছুটা লেখালিখি করছি। প্রত্যেক বছরের প্রথম দিনেই আমি সাধারণত গত বছরের ঘটনাবলী নিয়ে একটা পোস্ট লিখি। এবারও তা করতে চেয়েছি। কিন্তু পিছন ফিরে তাকালে স্মরণীয় ঘটনার চেয়ে সংকটের বাহুল্যই বেশি চোখে পড়ে।

সংকটের কোন অভাব ছিল না ২০২০ সালে। একদিকে করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী অন্যদিকে আমার পিএইচডির ফান্ডিং শেষ হওয়া দুই মিলিয়ে বেশ কাঠখোড় পোড়াতে হয়েছে। কিন্তু তারপরও বছরটা ভালয় ভালয় শেষ করতে পেরেছি এইটাই স্বস্তির বিষয়।


গণতান্ত্রিক দেশে মানুষ আন্দোলন কেন করে?

কারণ আন্দোলনের মাধ্যমেই একমাত্র জনগণের মনের কথা জানা যায়।

মিডিয়ায় কথা বলা, টকশো, সরকারকে স্মারকলিপি প্রদান এগুলোর মাধ্যমেও আমরা আমাদের নিজেদের ইচ্ছা সরকারকে জানাতে পারি। তবে সেটা সাধারণত মুষ্টিমেয় লোকের ইচ্ছার কথা। ইস্যুর ভিত্তিতে সমষ্টীগত জনগণের ইচ্ছা প্রকাশের একটাই উপায়। আর সেটা হল আন্দোলন।


নিজেই নিজের পুলিশ ও বিচারক

গতমাসে জার্মানির বার্লিন শহরে গিয়ে একটা বিষয়ে আমি বেশ অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।

শহরের কোন বাস, ট্রেন বা ট্রামে টিকেট চেক করা হয়না। কিন্তু মেশিন থেকে নিজ দায়িত্বে টিকেট কিনে সবাই যানবাহনে ওঠে।

কোন সিকিউরিটি গার্ড নেই। কিন্তু সবাই সুশৃঙ্খল।


তরুণদের আন্দোলনের কারণঃ আশা ও হতাশা

কোটার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের আন্দোলন। তরুণদের এসব আন্দোলন শুধুমাত্র চাকরী পাওয়া বা একজন ড্রাইভার এর শাস্তির দাবী ভাবলে সেটা অনেক বড় ভুল হবে।

সত্যি বলতে আমরা তরুণরা অনেক হতাশাগ্রস্থ একটা সমাজে বেড়ে উঠেছি।


আন্দোলনঃ তারুণ্যের শক্তি

ওরা বাচ্চা না। ওরা শিশুও না। অনেক পূর্ণবয়স্ক মানুষের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত।

সেটা ওদের আন্দোলনের ধরণেই সবাই টের পেয়ে গেছে আশা করি।

আমাদের সমাজের একটা বড় সমস্যা হল সঠিক বয়সে আমরা কাউকে কাজে লাগাই না।


বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে দুটি পর্যবেক্ষণ

বিশ্বকাপটা এবার একটু অন্যরকম। এমন একটা দেশে বসে বিশ্বকাপ দেখছি যারা নিজেরাই বিশ্বকাপে খেলছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হল বিশ্বকাপের কোন শোরগোল এখানে নেই।


সমন্বিত উদ্যোগ

কিছুদিন আগে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) মহাকাশে তাদের প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করল। এই ঘটনায় দেশবাসী মোটামোটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এক ভাগ অনেক গর্বিত হয় আর একভাগ বলতে থাকে, এই টাকা তো অন্য খাতে ব্যয় করা যেত। গরীবের আবার স্যাটেলাইট!

সরকার কেন রকেট বানায় না

এই দশকের আগে পর্যন্ত রকেট প্রযুক্তি ছিল পুরোপুরি সরকারের হাতে। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটা বেসরকারি কোম্পানির কাছে চলে যাচ্ছে। স্পেসএক্স এই ক্ষেত্রে অনেকটা বিপ্লব করে ফেলেছে। কারণ তাদের রকেট অনেক সস্তা। সম্ভবত ৫০ মিলিয়ন ডলার (স্মৃতি থেকে লিখছি, ভুলও হতে পারে) হলেই তাদের রকেট ভাড়া করা যায়।



কোটা, মুক্তিযুদ্ধ, নারীবাদ ও স্থানীয় উন্নয়ন

অনেকে কোটা বিরোধীতাকে মুক্তিযুদ্ধ বা নারীবাদের শত্রু হিসেবে দেখছেন। কিন্তু সবার বুঝতে হবে, চাকরিতে কোটা সিস্টেমে অনেক মৌলিক সমস্যা আছে যার সাথে মুক্তিযুদ্ধ বা নারীবাদের কোন সম্পর্ক নেই।

কোটা

কোটা থাকতে পারে সুযোগের ক্ষেত্রে, সুবিধার ক্ষেত্রে নয়। অর্থাৎ প্রত্যেকটি শিশু যেন সমান সুযোগ পায় বেড়ে ওঠার। কিন্তু সে যদি সুযোগ পেয়েও নিজেকে গড়ে তুলতে না পারে তার দায় রাষ্ট্রের নয়।

কুড়িগ্রাম জেলার দারিদ্র্য

প্রথম আলোর একটি সংবাদে দেখলাম কুড়িগ্রাম বাংলাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র জেলা। এই জেলার সত্তর শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে।


বাংলাদেশের উন্নয়ন

যখন বাংলাদেশের উন্নতির কথা বলা হয় তখন অনেকে সেটা বিশ্বাস করতে চাননা। যখন বলা হয়, বাংলাদেশের পক্ষে মালয়শিয়া সিংগাপুরের মত উন্নত হওয়া সম্ভব তখন সেটা অনেকে হেসে উড়িয়ে দেন।
এর অন্যতম কারণ বাংলাদেশের জনসংখ্যা। এত মানুষ নিয়ে এত ছোট একটি দেশ কিভাবে উন্নতি করতে পারে!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটা জাতির আশা, আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের প্রতীক। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্প নয়।

ষোড়শ সংশোধনী

আমরা খুবই ইমোশনাল জাতি। তাই নিজেদের যেটা ভাল লাগে সেটাকে ঠিক বলি। আর যেটা ভাল লাগে না সেটাকে খারাপ বলি। কিন্তু ইমোশন দিয়ে সবকিছু চলে না। বিশেষ করে আইন-আদালত তো নয়ই।
কিন্তু ষোড়শ সংশোধনীর বিরুদ্ধে দেয়া রায়ে আদালতকে যথেষ্ঠ আবেগপূর্ণ মনে হয়েছে। সাথে সাথে আমরা জনগণও আবেগের বশোবর্তী হয়ে একে অপরকে গালাগালি করে যাচ্ছি।

বাইরের জগত ও ভিতরের জগতঃ সত্য ও মিথ্যা

অন্য প্রাণীর থেকে মানুষের পার্থক্য হল, অন্য প্রাণীরা শুধু বাইরের জগতকে দেখে ও সেখানে বিচরণ করে। কিন্তু মানুষ কল্পণার মাধ্যমে নিজের ভিতরে আর একটা জগত তৈরি করে। এই বাইরের আর ভিতরের জগতের মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলতে থাকে প্রতিনিয়ত।


মানুষের ভিতরের জগত বা মনন শুধু নিজের ভিতরেই বন্দী থাকে না। একে বের করা যায় নিজের ভিতর থেকে। প্রকাশ করা যায়। মানুষ এটা করতে পারে কারণ তার ভাষা আছে।

ভাষা ব্যবহার করে আমরা যা কিছু বলি তাতেই আমাদের ভিতরের জগতের পরিচয় পাওয়া যায়। আমরা অনেক সময় এমন কিছুই বলি যা আমরা কখনও দেখিনি বা শুনিনি। অর্থাৎ যার কোন বাস্তব অস্তিত্ব নেই।

এভাবে ভাষা ব্যবহার করে আমরা যেমন সত্যকে তুলে ধরতে পারি তেমনি অনেক মিথ্যাও বানিয়ে বলতে পারি। এই মিথ্যা বলার ক্ষমতাকেই বলে কল্পণাশক্তি।

তবে সব মিথ্যা কিন্তু মিথ্যা নয়। অনেক মিথ্যা সত্যের চেয়েও শক্তিশালী হতে পারে। এমন অনেক মিথ্যার মধ্যে একটি বড় উদাহরণ হল- ভালোবাসা। প্রিয়জনের প্রতি মমত্ব অন্য প্রাণীরও আছে। কিন্তু মানুষই সম্ভবত একমাত্র প্রাণী যারা 'ভালোবাসা'র অনুভূতিকে নিয়ে গেছে অন্য উচ্চতায়।

কাউকে যদি জিঞ্জাসা করা হয়। ভালোবাসা বলতে সে কি বোঝে। বিভিন্নজনের কাছ থেকে এই প্রশ্নের বিভিন্ন উত্তর পাওয়া যাবে। কিন্তু একটা বিষয়ে সবাই হয়ত একমত, ভালোবাসা জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকে বলবে ভালোবাসা হল একটা অনুভূতি। অনেকে বলবে ভালোবাসা মানে নির্স্বার্থ ভাবে অন্যের জন্য কাজ করা। কেউ হয়ত বলবে ভালোবাসা মানে হচ্ছে সুখ-আনন্দ। বিজ্ঞান বলে ভালোবাসা হল হরমোন ক্ষরণে মস্তিষ্কের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। কিন্তু শুধুই কি তাই? একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে ভালোবাসা শব্দটির সাথে জড়িয়ে আছে, আমরা ছোট বেলা থেকে এখন পর্যন্ত যা শিখেছি তার সবই। এর মধ্যে অনেক কিছুই একদম নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা। যেমন- আমরা বুঝি কেউ আমাদের ভালোবাসলে, সে আমাদের ভালো চায়। আর কেউ আমাদের ঘৃণা করলে সব সময় আমাদের খারাপ চায়। আমাদের খারাপ কিছু হলেই তাতে তাদের আনন্দ। এই ভাবে ভালোবাসা শব্দটির সাথে সাথে ঘৃণা শব্দটি চলে আসে। একটিকে বুঝলে আর একটি বোঝা যায়। ঘৃণা নিয়ে বেশি কথা বলতে গেলে মূল প্রসঙ্গ থেকে দূরে চলে যাব। তাই ভালোবাসার প্রসঙ্গেই ফিরে যাওয়া যাক।

ভালোবাসা বিষয়ে অনেক কিছু আমরা যেমন নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছি, তেমনি এমন অনেক কিছুও শিখেছি যা আমরা নিজের অভিজ্ঞতায় কখনও পাইনি, বরং অন্য কেউ আমাদের বলেছে। বা অন্য কোন মাধ্যম হতে শিখে নিয়েছি।

একদম ছোট বেলায় আমরা দেখি রুপকথার গল্পের রাজপুত্র আর রাজকন্যার জীবনের উদ্দেশ্যই হল প্রেম-ভালবাসা-বিয়ে। যখনই তাদের মিল হয়ে গেল, তারপর থেকে তারা সুখে শান্তিতে জীবন যাপন করতে লাগল। এরপর একটু বড় হলে, নাটক, সিনেমায় দেখি নায়ক-নায়িকার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্যও হল ভালবাসা। ভালোবাসার মানুষকে পেলেই হয়ে যায় 'হ্যাপি এন্ডিং'। এভাবে আমরা বড় হতে থাকি আর আমাদের অনেক গল্প শোনানো হয় যার অনেক কিছুই হয়ত বাস্তবে সম্ভব না।

সাথে সাথে চলতে থাকে বড় বড় কোম্পানির বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা। আরও আছে বিশেষ দিবস। যেমন- ভ্যালেন্টাইন ডে। সাম্প্রতিক কালে অনেক ছেলে মেয়েই হয়ত প্রেম শুরু করেছে, এই ভেবে যে, ভ্যালেন্টাইন ডে তে তার সব বন্ধুরা প্রেম করতে বের হলেও সে কেন সেটা করতে পারছে না।

এই কাল্পনিক ধারণাগুলো আমাদের নিজেদের অনেকটা জুড়ে জায়গা করে নিয়েছে। তাই ভালোবাসা বলতে আমরা একদিকে যেমন বুঝি সুখ-আনন্দ, আত্মত্যাগ বা অনুভূতি। তেমনি অন্যদিকে, ভালোবাসা বলতে বুঝি- ক্যাম্পাসে কারও হাত ধরে ঘুরে বেড়ানো, সায়েন্স লাইব্রেরীর পিছনে গিয়ে বসে থাকা, পুরান ঢাকায় ঘুরতে যাওয়া, জন্মদিনে পাগলামি করা, কিছুক্ষণ পরপর ফোন ফোন দিয়ে গান শোনানো, দু'জনে মিলে নিজের জগতে ডুবে থাকা, ভ্যালেন্টাইন ডে উদযাপন, বন্ধুরা মিলে ঘটা করে প্রেমের এনিভার্সারি পালন ইত্যাদি। যদিও এর কোন কিছু না করলেও ভালোবাসা এতটুকু কমবে না, কিন্তু এগুলো ছাড়া আমাদের জীবন চলে? এগুলো না থাকলে জীবন কেমন যেন পানসে হয়ে যায়। আর অনেক ক্ষেত্রে প্রেমের মৌলিক ভিত্তিই হয়ে থাকে এগুলো।

আমি কিন্তু বলছিনা, ভালোবাসার অনুসঙ্গ গুলো কোন অংশেই আমাদের জীবনের জন্য খারাপ। কারণ ভালোবাসা না থাকলে আমাদের সমাজের বর্তমান সভ্য রূপই হয়ত থাকত না। বরং কল্পপনার মাধ্যমে তৈরি হওয়া ধারণাগুলোর কারণেই আমরা মানুষ। আমাদের ভালোবাসা প্রকাশের ধরণ তাই অন্য প্রাণীর মত স্থূল নয়। 

এভাবে অনেক কাল্পনিক ধারণা আমাদের কাছে সত্যের চেয়েও বেশি সত্য হয়ে ওঠে। কারণ ওই যে, আমরা আমাদের নিজেদের জগতকে নিজেদের মত করে রাঙিয়ে নিতে পারি।

মজার ব্যপার হল, আমরা শুধু নিজের ভিতরের জগতেই বিচরণ করি না। বরং আশেপাশের অন্য মানুষের জগতেও বিচরণ করি। তার কারণেই একজনের তৈরি ভ্যালেন্টাইন ডে'র ধারণা অন্য সবার ভিতরের জগতে প্রবেশ করে। ব্যপারটা অনেকটা একসাথে একই স্বপ্ন দেখার মত। এটা সম্ভব হয় ভাষার কারণে। কারণ ভাষা দিয়ে আমরা যেমন- সত্য বলি, তেমনি সত্যটাকে মাঝে মাঝে বদলে একটু মিথ্যা বলি। এভাবেই তৈরি হয় নতুন ধারণা। সত্যকে আমুল বদলে দিলে সেটাকে বলে 'মিথ্যা', আর সত্যকে একটু বদলে বিশ্বাসযোগ্য করে বললে সেটাকে বলে 'সৃজনশীলতা'। প্রখ্যাত লেখক হুমায়ূণ আহমেদ এই কারণেই এত নাম করেছেন। কারণ, উনি ডাহা মিথ্যা বিষয়কেও বিশ্বাসযোগ্য ভাবে উপস্থাপন করেছেন। তাই তার তৈরি করা গল্প অনেকের কাছে অতিরিক্ত 'কল্পণাপ্রবণতা' মনে হলেও অনেকের কাছেই তা জীবনের অবলম্বন। অনেক বেকার তরুণই গরম রোদে ঢাকার রাস্তায় হাঁটার সময় হয়ত স্বপ্ন দেখে হঠাৎ কোন সময় বড়লোক এক তরুণী গাড়ি থামিয়ে তার গাড়িতে তাকে তুলে নিবে। ভালোবাসাকে জড়িয়ে থাকা ধারণাগুলো হুমায়ুন আহমেদের গল্পের মতই। অনেকের কাছেই তা ভাবালুলতা। আর অনেকের কাছেই জীবন চলার পাথেও।

মানুষ তার ভিতরের জগতে শুধু ভালোবাসার মত অনুভূতির ধারণাই সৃষ্টি করেনা, সাথে সাথে এমন অনেক ধারণা সৃষ্টি করে যেগুলো কিনা এক একটি সত্ত্বা। যেমন- দেশ, জাতি ও দেশপ্রেম। পৃথিবীর বিভিন্ন অংশকে আমরা বিভিন্ন দেশ বলি। বাংলাদেশ বললেই আমাদের মনে ভেসে ওঠে লাল-সবুজের পতাকা, দেশের মানচিত্র, সুজলা-সুফলা গ্রাম আর নদী। তবে এর চেয়েও যেটা বেশি প্রকটভাবে উঠে আসে সেটা হল, এক ধরণের আপন অনুভূতি। বাংলাদেশ মানে আমার দেশ। কিন্তু একটু চিন্তা করলেই আমরা দেখব এই ধারণাগুলো আমাদের নিজেদের তৈরি। বাংলাদেশের মাটির কোথাও বাংলাদেশ কথাটা লেখা নেই। আমাদের গায়ের কোথাও বাঙালি কথাটা লেখা নেই। কিন্তু আমরা নিজেদের দেশের কথা ভাবলে বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারিনা। আমরাদের এই পুরো ভাবনাটাই আছে আমাদের নিজেদের মনের ভিতর। আমাদের সবার ভিতরের জগতে যেহেতু এই কমন ধারণাটা আছে, তাই আমাদের নিজের তৈরি করা বাংলাদেশ ধারণাটা সত্যের চেয়েও বেশি সত্য। আমরা এর জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত। কারণ আমরা জানি বাংলাদেশ না থাকলে আমাদের অস্তিত্বও থাকে না। অন্য দেশের ক্ষেত্রেও তাই।

এইভাবে নিজের জগতে থাকা ধারণাগুলো দিয়ে মানুষ গড়ে তোলে দেশ, দেশের সংবিধান, আইন - আদালত ইত্যাদি। আমরা সবাই জানি সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে হবে। এটা সবাই মিলে আমরা বিশ্বাস করি। এমন না যে পৃথিবীর সব দেশের সংবিধান একই রকম। কিন্তু আমরা জানি আমাদের সংবিধানকে রক্ষা করতে হবে। এতে যখন তখন হাত দেওয়া যাবে না। যদিও আমাদের দেশে সংবিধানকে একটু বেশিই কাটা-ছেড়া করা হয়েছে। কিন্তু যে দেশ তা করেনি তারা তত বেশি স্থিতিশীল থেকে এবং উন্নতি করেছে।

তারমানে মানুষের তৈরি করা ধারণাগুলো (মিথ্যাগুলোকে) রক্ষা করলে অনেক সময় সমাজের উপকার হয়। অনেক সময় অপকারও হয়। যেমন- আমরা সবাই কিছু কিছু কুসংস্কারে বিশ্বাস করি। গ্রামে গেলে প্রায়ই শোনা যায়, কাউকে ভূত ধরেছে। এই ধরণের বিশ্বাস আবার ক্ষতিকর। মিথ্যা বলার ক্ষমতা বা কল্পণাশক্তিকে ভাল কাজে যেমন লাগানো যায়, খারাপ কাজেও তেমনি লাগানো যায়।

এইযে আমরা একটা ধারণা তৈরি করতে পারি, তারপর সেই ধারণার জগতে সবাই মিলে বসবাস করতে পারি, তার কারণ, প্রথমেই বলেছিলাম, আমরা নিজেদের ভিতর এমন একটা জগত তৈরি করতে পারি বাইরের জগতের সাথে যার কোন মিল নেই। ভাষা ব্যবহার করে সেই জগতের ধারণা ছড়িয়ে দিতে পারি অন্যান্যদের মাঝে। আর সবাই মিলে সেই জগতে বসবাস করতে পারি যার বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই, কিন্তু সেটাই বাস্তবতা।

মঞ্জিলুর রহমান
কিবল কলেজ, অক্সফোর্ড

অসাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি দরকার সাধারণ মানুষের অসাধারণ কাজ

একটা জাতির উন্নতি হয় তার সাধারণ মানুষের জন্য। সাধারণ মানুষ যখন দারুণ কিছু করা শুরু করে তখনই সমাজের বা জাতির উন্নতি হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষ তখনই ভাল কিছু করতে পারে যখন সেই ভাল কিছু করার সহায়ক পরিবেশ থাকে।

অপু বিশ্বাস, শাকিব খান এবং আমরা

যারা বাংলার সিনেমার খবর নিয়মিত রাখেননা তাদের কাছে হয়ত এই খবরটি শকিং যে অপু বিশ্বাস ও শাকিব খান বিবাহিত ছিলেন এবং তাদের একটি সন্তানও আছে।