সাক্ষী

একটা বিয়ের সাক্ষী দিলাম। মুসলিম এক যুগল বিয়ে করবে আমার বন্ধুর পূর্ব পরিচিত। কিন্তু কোন সাক্ষী পরিচিত নেই তাদের। আমাকে যখন বলা হল, আমি সাক্ষী দিতে চাই কিনা, আমি সাথে সাথে রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। গতকালই ছিল সেই বিয়ে।

একটা মসজিদে বিয়ে হল। অক্সফোর্ড সেন্ট্রাল মসজিদে। বিয়েতে মানুষ বলতে বর কনে। দুজন পুরষ সাক্ষী (আমি সহ)। সাথে কনের দুজন বান্ধবী।

ইমাম সাহেব নিজেই বিয়ের উকিল হয়ে গেলেন। উনি প্রথমে কনের সম্মতি আছে কিনা সেটা জিজ্ঞাসা করলেন। কনে হ্যাঁসূচক সম্মতি দিলে উনি খুতবা পড়লেন এবং তারপর বরকে জিজ্ঞাসা করলেন সে এই কনেকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করবে কিনা। বর তিনবার বলল, আমি তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলাম।

এরপর বর কনেকে অভিনন্দন জানানো হল। এই পর্যায়ে আমরা ইমামের সাথে গল্প শুরু করে দিলাম। উনি পাকিস্তানী বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ। আমাদের জিজ্ঞাসা করলেন আমরা কোন দেশের। আমরা দুই সাক্ষীই বললাম আমরা বাংলাদেশের। তখন উনি বললেন, আমি দুই একটা বাংলা পারি। বলেই, উনি একটা গজল ধরলেন।
নবী মোর পরশমনি,
নবী মোর সোনার খনি,
নবী নাম জপে যেজন,
সেইতো দোজাহানের ধনী ।

সুর করে উনি পুরোটা গেয়ে শেষ করলেন। ভাল লাগল অনেক। এক বিদেশি নাগরিক কষ্ট করে আমাদের ভাষায় গান শিখেছে। শুনে প্রাণ ভরে গেল।

বিয়ের পর আমরা একটা রেস্টুরেন্টে গেলাম ব্যুফে খেতে। সেখানে এত বেশি খেলাম যে খাওয়া শেষে হাসফাস লাগা শুরু হয়ে গেল। নিজের উপর একটু বিরক্তই হলাম বেশি খাওয়ার জন্য। কিন্তু এখন তো আর কিছু করার নেই। তারপর আরও গল্প গুজব করে নতুন দম্পতিকে অভিনন্দন জানিয়ে বাসায় ফিরলাম।

ওরা বিয়ের অনুষ্ঠান করবে কিছুদিন পর। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে। সেসময় আমাদেরকে অবশ্যই যাওয়ার অনুরোধও করেছে তারা। অনুষ্ঠান যুক্তরাজ্যের ভিতরে হলে অবশ্যই যাব।

মঞ্জিলুর রহমান
কিবল কলেজ, অক্সফোর্ড

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন