গণতান্ত্রিক দেশে মানুষ আন্দোলন কেন করে?

কারণ আন্দোলনের মাধ্যমেই একমাত্র জনগণের মনের কথা জানা যায়।

মিডিয়ায় কথা বলা, টকশো, সরকারকে স্মারকলিপি প্রদান এগুলোর মাধ্যমেও আমরা আমাদের নিজেদের ইচ্ছা সরকারকে জানাতে পারি। তবে সেটা সাধারণত মুষ্টিমেয় লোকের ইচ্ছার কথা। ইস্যুর ভিত্তিতে সমষ্টীগত জনগণের ইচ্ছা প্রকাশের একটাই উপায়। আর সেটা হল আন্দোলন।


সেই অর্থে কোন আন্দোলনই সরকারের প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা নয়। কারণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার জনগণের ইচ্ছার কথা জানতে পারছে। তাদের দায়িত্ব হল সেই ইচ্ছা বাস্তবায়ন করা।

দেশের মালিক জনগণ। জনগণের টাকায় দেশের সকল সরকারী কর্মচারী, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিরা বেতন নেন। তাদের থাকা, খাওয়া, যাতায়াত সবকিছুর ভার বহন করে জনগণ। যে লোকটা দিন আনে দিন খায় সেও তার যতসামান্য আয় দিয়ে এই ভারের একটা অংশ বহন করে। জনগণ যেহেতু খাইয়ে পরিয়ে সরকারকে পালে, তাই জনগণ যখনই কোন ইস্যুতে আন্দোলন করে সাথে সাথে সেই ইস্যুর সমাধানে সরকারের উঠেপরে লাগার কথা।

সমস্যা তখনই হয় যখন সরকার মনে করে জনগণের কাজ করা তার দায়িত্ব নয়। যখন সরকার নিজেকে দেশের মালিক মনে করা শুরু করে। তখনই তারা জনগণের আন্দোলনকে বাস্তবায়ন করার পরিবর্তে দমন করা শুরু করে।
সেই ক্ষেত্রে জনগণের হাতে একটাই উপায়। আর সেটা হল, সরকার যে দেশের মালিক নয় সেই বিভ্রান্তি ভেঙ্গে দেওয়া। দেশের দায়িত্ব নিজের কাছে বুঝিয়ে নেওয়া। আন্দোলন করে সেটা সম্ভব নয়। সেটার জন্য প্রয়োজন হয় বিপ্লবের।

পুনশ্চঃ আন্দোলন করে তখনই কাজ হয়, যখন সেই আন্দোলন শোনার কেউ থাকে।

- কিবল কলেজ, অক্সফোর্ড

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন