সরকার কেন রকেট বানায় না

এই দশকের আগে পর্যন্ত রকেট প্রযুক্তি ছিল পুরোপুরি সরকারের হাতে। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটা বেসরকারি কোম্পানির কাছে চলে যাচ্ছে। স্পেসএক্স এই ক্ষেত্রে অনেকটা বিপ্লব করে ফেলেছে। কারণ তাদের রকেট অনেক সস্তা। সম্ভবত ৫০ মিলিয়ন ডলার (স্মৃতি থেকে লিখছি, ভুলও হতে পারে) হলেই তাদের রকেট ভাড়া করা যায়।



যুক্তরাষ্ট্রে রকেট শিল্পকে এখনও এডভান্সড ওয়ারফেয়্যার খাত বিবেচনা করা হয়। তবে আমার মনে হয় রকেট শিল্প খুব দ্রুতই যোগাযোগ খাতে চলে যাবে। ফলে একটা বাস বা বিমানকে যেভাবে বিবেচনা করা হয় রকেটকে সেভাবে বিবেচনা করা হবে।

আমরা যখন বিদেশে ফেডেক্স করে চিঠি পাঠাই, তখন ফেডেক্স চিঠিটা নিয়ে গেলেও চিঠিটা আমাদেরই থাকে। একইভাবে স্পেসএক্স আমাদের স্যাটেলাইট বহন করে নিয়ে গেলেও স্যাটেলাইটটি আমাদেরই থাকছে।

অনেকে বলছেন, বাংলাদেশ সরকার নিজে কেন রকেট বানাচ্ছে না। কারণ সেটি করলে খরচ অনেক বেশি হত। আমেরিকা সরকার কিছুদিন আগে রকেট বানানো বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ সরকারি রকেট প্রকল্প অনেক ব্যয়বহুল। আমেরিকায় স্পেসএক্স আর বোয়িং এই দুই কোম্পানি মিলে সরকারের সব রকেট উৎক্ষেপণ করে দেয়।

তবে আমি স্বপ্ন দেখি এমন একদিন আসবে যখন বাংলাদেশের কোন কোম্পানি রকেট বানাবে। আর সেখানে কাজ করবে বাংলাদেশি তরুণেরা।

ফ্যালকন নাইন ও বঙ্গবন্ধু-১
=====================
স্পেসএক্স সবসময় আমার প্রিয় কোম্পানিগুলোর একটা। তাদের কারণে এখন রকেট উড়ানোর খরচ অনেক কম। আগামীকাল তাদের ফ্যালকন নাইন ফ্যামিলির সর্বশেষ ভার্সন মহাকাশের উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মত উড়ে যাবে।

এই রকেটের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল উড়ার পর ল্যান্ড করে ৪৮ ঘন্টা পর আবার উড়তে পারবে। অন্য রকেট যেখানে একবার উৎক্ষেপণের পর ধ্বংস হয়ে যায় সেখানে ফ্যালকন নাইন বারবার উৎক্ষেপণ করা যাবে। ফলে একটি রকেট দিয়েই দশটির বেশি মিশন সম্পন্ন করা যাবে।

ফ্যালকন নাইনের নতুন মডেল তাই মহাকাশ শিল্পে অনেকটা বিপ্লবের মত।

কালকের মিশনের গুরুত্ব আমার কাছে আর একটা কারণে অনেক বেশি। কারণ কাল ফ্যালকন নাইনের নাকের ডগায় থাকবে বাংলাদেশের প্রথম ভুস্থির স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১৷ অবশেষে মহাকাশে বাংলাদেশের একটা পরিচয় তৈরি হল। চিন্তা করছি আর গর্বিত হচ্ছি।

মঞ্জিলুর রহমান
কিবল কলেজ, অক্সফোর্ড

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন