ভার্চুয়াল জগতে প্রাণ-৪ : কৃত্রিম মস্তিষ্ক

আগের লেখাগুলোতে কম্পিউটারে কি করে বিবর্তনের অনুরূপ পরীক্ষা করা হয় তা বলা হয়েছে। এই জ্ঞানকে ব্যবহার করে কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরি করা সম্ভব। লরা গ্যাব্রষ্কি একধরণের এভিডিয়ান বিবর্তিত করেছেন যা একটা আলোক উৎস সংবেদন করতে পারে। পরবর্তিতে এই এভিডিয়ানদের জিনোমকে কম্পিউটার কোডে বদলে দিয়ে একটা রোবট তৈরি করা হয়েছে। রোবটটি আলোক উৎসের দিকে যেতে পারে। তারমানে কিছু সরলতম ডিজিটাল জীব একটু জটিলতর হয়ে গেছে।


মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির আরেক বিজ্ঞানী জেফ ক্লুনে এভাবে রোবটের জন্য কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরির জন্য কাজ করেন। তিনি হাইপারনিট নামের একটি সিস্টেম নিয়ে কাজ করেন যা ডেভেলভমেন্টাল বায়োলজির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কিছু নির্দেশনা থেকে বহুসংখ্যাক নিউরন তৈরিতে সক্ষম।

প্রকৃতিতে ভ্রুণের নির্দিষ্ট কোন জায়গায় একটি কোষ অবস্থান করে, সেই অবস্থানই নির্ধারণ করে কোষটির ভাগ্য অর্থাৎ সেটি কি ধরণের কোষে (যেমন- চোখ, ত্বক, হার্ট কোষ ইত্যাদি) পরিণত হবে। হাইপারনিটেও একটা স্থানাঙ্ক ব্যবস্থায় কৃত্রিম নিউরনের অবস্থান ঠিক করে তার ভুমিকা এবং ধরন।

ক্লুনের মতে, এ থেকে এটাই স্পষ্ট যে কয়েকটি কম্পিউটার নির্দেশনা বা "জিন" থেকে জটিল মস্তিষ্কও তৈরি সম্ভব। অন্যদিকে, তথাকথিত নিউরাল নেটওয়ার্কে প্রতিটি কোষ তৈরির জন্য আলাদা আলাদা নির্দেশ লাগে। ফলে কাজটি করা অনেক শ্রম সাপেক্ষ আর সেটা দিয়ে অনেক জটিল মস্তিষ্ক তৈরি কঠিন তো বটেই। আর নতুন ব্যবস্থায় নির্দেশনার একটা গুচ্ছ সব কোষ তৈরি করে।

এই পরীক্ষাগুলো আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির স্বপ্নকে বাস্তব করার আভাষ দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে সরল এভিডিয়ান জগতে যুক্ত করতে হবে আরও অনেক ধরণের উপাদান যা তাদের উপর সিলেক্টিভ প্রেসার তৈরি করে তাদের আরও উন্নত করবে। শুধু তাই নয় এ প্রযিক্তি ব্যবহার করে এমন নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করা যাবে যেগুলো প্রাকৃতিক মস্তিষ্কের মতই। অর্থাৎ, প্রতিসম ও সুশৃঙ্খল মস্তিষ্ক। আর তা করা যারে হাইপারনিটের মত সিস্টেমে এমন নির্দেশনা ঢুকিয়ে যা কোষের সঠিক প্যাটার্ন তৈরি করবে।

এভিডা জটিল জীন তৈরি করে, তাকে আরো জটিলতর করতে পারে আর হাইপারনিট সেগুলো ব্যবহার করে বহুকোষী মস্তিষ্ক তৈরি করে। ভবিষ্যতে এভাবেই হয়ত উদ্ভব হবে পঞ্চম মাত্রার কম্পিউটার যার বুদ্ধি মানুষের বুদ্ধির সমান। অসাধারন ব্যপার। ভাবতেই এরকম কিছু একটা নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছা করে।

বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, এক সকালে লেখাটা শুরু করেছিলাম। শেষ করলাম আজ দুপুর বেলা। কিন্তু লেখাটা পড়ছি থেকেই মাথার একটা অংশ ঢুকে গেছে এভিডায়। মাঝে মাঝে ঘোর লাগে বিষয়গুলো আসলে সত্যি, নাকি কোন সায়েন্স ফিকসন।

ভার্চুয়াল জগতে প্রাণ-১ : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পথে
ভার্চুয়াল জগতে প্রাণ-২ : এভিডিয়ানদের জগত
ভার্চুয়াল জগতে প্রাণ-৩ : স্মৃতির উন্মেষ

তথ্যসুত্রঃ নিউ সায়েস্টিস্ট উইকলিতে (আগষ্ট ২০১০ ইস্) প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ।

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন