লুসিফার


লুসিফার নামে একটা টিভি সিরিজ দেখছি গত সপ্তাহ থেকে। নাম শুনলেই বোঝা যায় 'ডেভিল' বা শয়তানের সাথে এই সিরিজের সম্পর্ক আছে। কারণ ইবলিশ শয়তানের আরেক নামই লুসিফার। সিরিজের প্রধান চরিত্র লুসিফার মর্নিংস্টারের নামে সিরিজের নাম।


সৃষ্টির শুরুতে লুসিফার ফেরেশতাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট ছিল। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার হুকুম অমান্য করায় তার ফেরেশতা উপাধি কেরে নেয়া হয়। ফেলে দেওয়া হয় আসমান থেকে। তাই লুসিফারকে বলা হয় 'ফার্স্ট অব দ্যা ফলেন' অথবা 'ফলেন এঞ্জেল' অথবা 'পতিত দেবদূত'।

সিরিজে দেখানো হচ্ছে দোযখে মানুষকে শাস্তি দেওয়া লুসিফারের কাজ হলেও নিজের দৈনন্দিন কাজে বিরক্ত হয়ে, সে দোযখ ছেড়ে আমেরিকার লস এঞ্জেলসে চলে আসে ছুটি কাটাতে। এরপর তার কাছে পৃথিবী এতটাই ভাল লেগে যায় যে, সে আর পৃথিবী থেকে ফিরে যেতে চায় না।

সবচেয়ে মজার বিষয় হল, লুসিফার একটা বিষয় নিয়ে সব সময়ই খুব হতাশ থাকে। আর তা হল, মানুষ নিজে যে পাপ করে তার সব দায় লুসিফারের উপর চাপায় দেয়। কিন্তু লুসিফার বলে আমি তো মানুষকে পাপ করাতে বাধ্য করিনা। তারা নিজের ইচ্ছাতেই পাপ করে আর দোষ দেয় আমার।

মানুষের রূপ নিয়ে মানুষের সাথে থাকতে থাকতে লুসিফারের মধ্যে অনেক মানবিক অনুভূতিও চলে আসে। সে প্রেমে পড়ে। তার মধ্যে হিংসা জন্ম নেয়। আবার কখনও বাবা-মা এর উপর থাকা ক্ষোভও বের হয়ে পরে। পৃথিবীতে লুসিফারের মুল ব্যবসা হল ডিটেকটিভের কাজ করা। সাথে সাথে সে 'লাক্স' নামে একটা নাইট ক্লাব চালায়।

সব মিলিয়ে সিরিজটা বেশ মজার।

ফ্যান্টাসি থ্রিলার ধাঁচের কাহিনী অবশ্য সবসময়ই আমার ভাল লাগে। অন্য যেকোন জনরার থেকে এই জনরাটাই বেশি প্রিয়। মাসুদ রানার বই পড়ার সময়ও সলোমনের গুপ্তধন বা মিশরের পিরামিডের কাহিনীগুলো পড়ার সময় সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চিত হতাম।

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন