লিসবন যাচ্ছি

আজকে রবিবার। ছুটির দিন। তারপরও কাল পর্তুগালের রাজধানী লিসবন যাচ্ছি বলে হাতের কিছু কাজ সারতে বিকেল বেলা ল্যাবে গেলাম।


আমি আর আমার এক বন্ধু মিলে এক্সপেরিমেন্ট সেটআপ করছি। দেখা হওয়ার সাথে সাথেই বন্ধুটি বাংলাদেশের আন্দোলনের বিষয় জিজ্ঞাসা করা শুরু করল। ছাত্ররা আন্দোলন কেন করতেছে? পুলিশ কেন তাদের মারতেছে এই সব?

আমি মনে মনে ভাবলাম, আমাদের দেশের লোক যেখানে আন্দোলনের খবর ঠিকমত পাচ্ছেনা, সেখানে বিদেশিরা ঠিকই সব খবর জানে। অনেকে নিজেদের চোখ বন্ধ করে রেখে মনে করে বাইরে থেকে কেউ তাদের দেখতেছে না। কিন্তু পুরো পৃথিবীর সবাই দেখতেছে বাংলাদেশে কি হচ্ছে।

ল্যাবের কাজ শেষ করে একটু আগে বাসায় ফিরলাম। কাল বিকেলে ফ্লাইট ধরতে হবে তাই ব্যাগ গুছাচ্ছি আর দেশের নিউজ দেখতেছি।

মন খারাপ হচ্ছে আমার ছোট ভাই বোনগুলো মার খাচ্ছে দেখে। আবার তাদের সাহসিকতা দেখে ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদও বাড়তেছে। একদম মিশ্র অনুভূতি।

দেশের এধরণের মুহূর্তে বিদেশে বসে তেমন কিছু করার থাকেনা। তাই নিজেকে আরও ভালভাবে তৈরির চেষ্টা করি। আরো ভাল বিজ্ঞানী হওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞা করি। ভবিষ্যতে দেশের প্রয়োজন হলে সাথে সাথে যেন চলে যেতে পারি সেজন্য নিজেকে প্রস্তুত করি। আমার মনে হয়, নিজের জাতির জন্য এই কাজ করাটাই আমার দায়িত্ব।

- কিবল কলেজ, অক্সফোর্ড

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন