তরুণদের আন্দোলনের কারণঃ আশা ও হতাশা

কোটার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের আন্দোলন। তরুণদের এসব আন্দোলন শুধুমাত্র চাকরী পাওয়া বা একজন ড্রাইভার এর শাস্তির দাবী ভাবলে সেটা অনেক বড় ভুল হবে।

সত্যি বলতে আমরা তরুণরা অনেক হতাশাগ্রস্থ একটা সমাজে বেড়ে উঠেছি।


আমাদের সামনে সুন্দর একটা ভবিষ্যত নেই। এবং আমরা জানি আমাদের সাথে অনেক ক্ষেত্রেই অবিচার হচ্ছে।
এই অবিচারগুলো বিদেশের কেউ এসে করে যাচ্ছেনা। বা অন্য গ্রহের কেউও করছেনা। আমাদের নিজেদের লোকজনই আমাদের উপর অবিচার করছে।

একটু লোভের জন্য তারা পুরো সিস্টেমকে ধ্বংস করছে।

যেসব দেশে মানুষ ঘুষ খায়না সেসব দেশে কি সবাই গরীব? বা যেসব দেশের পুলিশ মানুষ পেটায় না সেসব দেশে কি আইন শৃংখলা নেই?

বরং সেসব দেশ আরও ভাল আছে। তাদের সবাই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। তাদের দেশে আইন-শৃংখলাও ভাল।
এর অন্যতম কারণ সেইসব দেশের মানুষ বুঝে গেছে উন্নত হতে গেলে অন্যকারও সম্পদ মেরে খেতে হবে হবে এমন কোন কথা নেই। বরং সবাই মিলে একসাথে উন্নত হওয়া যায়।

অতীতে ধারণা করা হত সম্পদের পরিমাণ সীমিত। তাই একজনকে বড়লোক হতে হলে অন্যকে গরীব হতে হবে। কিন্তু বিজ্ঞানের কল্যাণে আজ অবস্থা বদলেছে। আগের বছর যে জমিতে ১০০ টন ধান হত সেখানে এখন ১২৫ টন ধান হয়।
ফলে অন্যজনের সম্পদ চুরির থেকে একটা ভাল স্ট্রাটেজী হল কিভাবে সবার সম্পদ একসাথে বাড়ানো যায় তার উপায় বের করা।

কিন্তু এটা অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যপার। আমাদের দেশের মানুষের এত সময় কোথায়?

তাই ব্রীজ বানানোর সময় ১০০ কোটি বাজেট হলে আমরা সেখান থেকে ২৫ কোটি মেরে দেই। এটা চিন্তা করি না ঐ ব্রীজের উপর দিয়ে আমার দেশের মানুষই মালামাল পরিবহন করে সামনের একশ বছরে হয়ত ১০ হাজার কোটি টাকা আয় করবে।

১০ হাজার কোটির জায়গায় আমরা ২৫ কোটিকে বেছে নেই। ফলে দশ বছর পর ব্রিজটি ভেঙ্গে পরে।
বছরের পর বছর ধরে এভাবেই চলে আসছে।

স্বল্পমেয়াদী স্বল্প লাভের আশায় আমরা নিজের দেশটাকে গরীব ময়লা আবর্জনা বানিয়ে রাখি। তারপর অন্য দেশে শ্রমিক হয়ে কাজ করতে যাই। গিয়ে তাদের ড্রেন পরিষ্কার করে দিয়ে ডিসি হয়ে যাই। আমাদের সমাজের সবাই যেহেতু ডিসি এসপি হতে যায় তাই সেটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু মাঝে মাঝে আমাদের তরুণ সমাজ জেগে ওঠে। তারা বোঝে যা হচ্ছে তা ঠিক হচ্ছে না। তারা ব্যপারটাকে মেনে নিতে পারছে না।

তাই তারা আন্দোলন করে। একটার পর একটা আন্দোলন করে। কারণ তারা বোঝে এরচেয়ে সুন্দর একটা জীবন তারা ডিজার্ভ করে।

কিন্তু কবে আসবে সেই জীবন?

- কিবল কলেজ, অক্সফোর্ড

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন