ভিসা অভিজ্ঞতা

একটা দেশকে কিভাবে ব্রান্ডিং করতে হয় তার সবচেয়ে ভাল উদাহরণ নিঃসন্দেহে তাদের এমবাসী।
আজকে জীবনে প্রথমবারের মত যুক্তরাষ্ট্রের এমবাসীতে গেলাম। গিয়েই দেশটার সমন্ধে একটা ভাল ধারণা হয়ে গেল।


আমার যেতে আধা ঘন্টার মত দেরি হয়ে গিয়েছিল। যাওয়ার সাথে সাথেই সব কাগজপত্র নিয়ে গুছিয়ে আমার হাতে দিয়ে তাড়াতাড়ি সিকিউরিটি চেক করে ভেতরে যেতে বলল। আমি ভেতরে গিয়ে কিছুক্ষণ বসতেই আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে আর একটি লাইনে দাঁড়াতে বলল। লাইনে কিছুক্ষণ দাঁড়ানোর পরই আমার ইন্টারভিউয়ের সময় চলে আসল। ভদ্রলোক বলল, স্যার কেমন আছেন। আমি বললাম, ভাল আছি। আপনি কেমন আছেন। সেও ভাল আছে বলল। এরপর আমি কি করি জিঞ্জেস করল। আমি বললাম অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে নিউরোসায়েন্সে পিএইচডি করি। বলল, স্যার, আপনি কি ভবিষ্যতে নিউরোসার্জেন হবেন। আমি বললাম, না, মেডিসিনে আমার আগ্রহ নেই। আমি থিওরী নিয়ে কাজ করি। কেন এমেরিকা যেতে চাই জিঞ্জেস করায় বললাম, একটা কনফারেন্সে যাব। বলল, যে কনফারেন্সে যাচ্ছেন তার কোন কাগজপত্র সাথে আছে? আমি বললাম, সেরকম কিছু নেই তবে যে এবস্ট্রাক্ট জমা দিয়েছি তার কনফারমেশন আছে। বলল, ঠিক আছে। আমি আপনার ভিসা এপ্রুভ করে দিয়েছি। দুই দিনের মধ্যে ভিসা হয়ে যাবে। আশা করি আপনার প্রেজেন্টেশন ভাল হবে। আমি ধন্যবাদ দিয়ে চলে আসলাম।

সত্যি বলতে এর আগে যে কয়টা দেশে গেছি সব দেশের ভিসা অফিসেই খুব ভাল ব্যবহার করেছে। তুরস্কে যাওয়ার সময় তো আমরা যেকয়জন স্কলারশিপে তুরস্ক যাচ্ছিলাম সবাইকে কনসুলার সাহেব তার রুমে বসিয়ে বেশ আদর আপ্যায়ন করেছিলেন।

ব্রিটেনে আসার সময়ও ইন্টারভিউয়ে যথা-সম্ভব ভাল ব্যবহার করেছে। ভিডিও কনফারেন্সের ইন্টারভিউকারী বারবার বলছিল, আমি আপনাকে এত প্রশ্ন করছি সেজন্য অনেক দুঃখিত কিন্তু ফর্মালিটির কারণে এইসব প্রশ্ন করতে হয়।

তবে ভিসা বিষয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে প্রতিদেশি দেশগুলোকে নিয়ে। দেশে থাকতে আমরা বন্ধুরা মিলে একবার ঠিক করলাম ভারত যাব। এই পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে আমরা অনলাইনে এপ্লিকেশন পুরণ করে ফেললাম। এরপর এপয়েনমেন্টের জন্য যতবারই চেষ্টা করি বলে এখন এপয়নমেন্ট স্লট খালি নেই। পরে চেষ্টা করেন। কিন্তু পরে চেষ্টা করেও কিছুতেই কিছু হয়নি। শেষমেষ ভারত যাওয়ার প্লান বাদ দিতে হয়েছিল। পরে জানতে পারি ভিসার এপয়নমেন্ট নিতে দালাল ধরতে হয়। এখন ব্রিটেনে থেকে পাশের দেশ ফ্রান্স যেতে গেলেও মোটামোটি একই অবস্থা। অসংখ্য ডকুমেন্ট যোগার করতে হয়। প্লেনের টিকেট আগেই কাটতে হয়। হোটেল আগে থেকে বুকিং দিতে হয়। সাথে সাথে ট্রাভেল ইনসুরেন্সও আগেই করতে হয়। একটা জায়গায় ঘুরতে যাব কয়েকটা দিনের জন্য তারজন্য এত ঝামেলা করে কে। এইসব কারণে অনেকবার প্লান করেও সেনগেন ভিসায় এপ্লাই করিনি।

এইসব নিয়ে ভিসা বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতাটা মিশ্র। তবে ভিসা নিতে ভিসা অফিসে কেন যেতে হবে এই বিষয়টা এখনও আমি বুঝি না। এয়ারপোর্টে যাওয়ার সময় তো সশরীরে সবাইকে চেক করাই হবে। ডকুমেন্ট ঠিক আছে কিনা সেটা চেক করার জন্য ইন্টারভিউয়ের কি প্রয়োজন!

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+
সর্বশেষ পোস্ট


ইমোটিকনইমোটিকন