আপন শহর

অক্সফোর্ড এখন অনেকটা নিজের শহরের মত হয়ে গেছে। যখন বাংলাদেশ ছেড়ে চলে আসি, মনে হতে থাকে বিদেশে যাচ্ছি। লন্ডনে পৌছার পর মনে হয় বিদেশে আছি। কিন্তু অক্সফোর্ডে আসার পর আর সেটা মনে হয়না। অক্সফোর্ডে পৌঁছার পরই মনে হয় এই তো সেই চিরচেনা শহর।


সামারটাউনের বাসাটাও আমাকে আপন করে নিয়েছে। দিনের সূর্য রাতের চাঁদের আলোয় এক ধরণের আদর মাখা থাকে আমার ঘরে। আজকেও আকাশে চাঁদ উঠেছে। চাঁদের সাথে কয়েকটা তারা। মোহনীয় এক ধরণের সৌন্দর্য বাইরে। এই ছাড়াও বাসাটার মধ্যে একধরণের আপন আপন ভাব আছে। কুড়িগ্রামের মত মনে হয়। এই কথাটা আগেও বলেছি। কুড়িগ্রামে বড় হয়েছি বলেই হয়ত আপন কোন কিছুর সংজ্ঞা আমার কাছে কুড়িগ্রামের মত।

একটাই সমস্যা জায়গা পরিচিত হলেও মানুষগুলো এখনও ঠিক পরিচিত হয়ে উঠেনি। পরিচিত মানুষ আছে। কিন্তু সাধারণভাবে এখনও আশেপাশের সব মানুষকে আপন মনে হয়না। তার অবশ্য কারণও আছে। বাংলাদেশের মানুষ যেমন সবাই মিলে আড্ডা মেরে সময় কাটাতে পুছন্দ করে। এখানকার মানুষ তেমন না। তারা নিজে নিজে অনেকটা সময় কাটাতে অভস্থ্য। তাই অবসর সময়ে গ্যাজানো হয়না আরকি।

সবচেয়ে ভালো হত যদি এখানে পরিবার পরিজন নিয়ে থাকা যেত। তাহলে মনে হয়না আর কিছু মিস করতাম। হ্যাঁ নিজের দেশের দেশের অনেক কিছুই হয়ত এখানে পাওয়া যাবেনা। কিন্তু নিজের মানুষ এখানে থাকলে জীবনটা অনেক স্বাভাবিক হয়ে উঠত। এখনকার মত অস্বাভাবিক মনে হত না। তখন অক্সফোর্ড পুরোপুরি নিজের শহর হয়ে উঠত।

মঞ্জিলুর রহমান
সামারটাউন, অক্সফোর্ড

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন