নাজার প্যালেস আনলিমিটেড

অবশেষে সায়েন্সের আসল চেহারাটা বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। গত দুই সপ্তাহ বহু খাটা খাটুনি করেও তেমন ভাল কোন এক্সপেরিমেন্ট করতে পারলাম না। ভেবেছিলাম ছুটির সময়টায় কাজ করে কিছু ডেটা কালেকশন করলে পরবর্তীতে পাবলিকেশনের কাজে লাগবে, সেটা হল না। তবে কাজ যে কিছুই হয়নি তা না। মোটে তিনটি নিউরন থেকে রেকর্ড করতে পেরেছি।


একটা কাজে রেজাল্ট আসলে সেই কাজ করার আগ্রহ থাকে। কিন্তু রেজাল্ট না আসলে আগ্রহ একটু একটু করে কমে যেতে থাকে। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। টানা কিছুদিন কোন ডেটা না পাওয়ায় এক্সপেরিমেন্ট করার সময় আজকে খুবই বোরড লাগছিল। তাই দুপুর বেলা আমার দুই বন্ধু যখন ল্যাবে এল আমাকে লাঞ্চে যাওয়ার জন্য ডাকতে, তখন কাজ বাদ দিয়ে লাঞ্চে যাওয়ার ব্যাপারে দ্বিতীয়বার চিন্তা করলাম না। সবকিছু ঐ অবস্থায় ফেলে রেখেই বেরিয়ে গেলাম ওদের সাথে।

এদের দুইজনের একজনের সাথে বহুদিন দেখা হয়না। তাই সে নিজে থেকেই চলে এসেছে দেখা করতে। এতে লাঞ্চ খাওয়ার ফাঁকে গল্পও করা যাবে। সেই বলল, সেন্ট জনস কলেজের কাছে একটা দোকান আছে ভাল স্যান্ডউইচ র‍্যাপ বানায়। আমি আর অন্যজনও কখনও সেখানে খাইনি, তাই সেখানে যাওয়ার প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেলাম।
দোকানের নাম নাজার প্যালেস। রাস্তার পাশেই ছোট দোকান। আশেপাশে অন্য দোকান নেই। বসে খাওয়ার জায়গাও নেই। অনেকটা ফুড ভ্যানের মত। দোকানদাররা তুরস্কের লোক, কুর্দি। অবশ্য তাদেরকে যখন জিজ্ঞাসা করা হল আপনারা কোন দেশ থেকে এসেছেন। তারা বলল, কুর্দিস্তান। কুর্দিরা তুরস্কে বসবাস করলেও তুরস্ককে খুবই ঘৃণা করে এবং তুরস্কের পরিচয় দেয় না সাধারণত।

তারা একটা র‍্যাপ বানায় যেটাতে যত খুশি তত আইটেম নেওয়া যায়। আমরা সেটার জন্যই অর্ডার করলাম। বললাম, তিনটা আনলিমিটেড দেন। দোকানদার জিজ্ঞাস করল রুটির ভেতরে কোন কোন আইটেম চাই। আমি মোটামুটি যত অপশন ছিল সবই নিলাম। ফালাফেল, অবারজিন, বাবা গণুশ, টাবলুশ থেকে শুরু করে ল্যাম্ব, চিকেন যা আছে আর কি, বাকিগুলার নাম মনে নেই। এইসব নামের সাথে এখনও তেমন অভ্যস্থ হইনি। আমার দুই বন্ধুও অর্ডার করেই যাচ্ছে। প্রায় ৫-১০ মিনিট ধরে আমরা অর্ডার করছি আর দোকানদাররা রুটির উপর একটা একটা করে জিনিস স্তুপ করছে। কিছুই বাদ দিতেছি না। এতে দোকানদাররা আমাদের উপর কিছুটা বিরক্ত।

ততক্ষণে আমাদের পিছনে অন্য কাস্টমারের লাইন লেগে গেছে। অবশেষে আমার বন্ধুদের অর্ডার করা শেষ হল। কিন্তু আমি বলেই যাচ্ছি এইটা দেন ঐটা দেন। শেষে বললাম, এইবার একটু লেটুস, টমেটো আর হেলাপিনো দেন সাথে একপিস চিজও দেন। শেষ পর্যন্ত আমারও অর্ডার করা শেষ হল। খাবার এত বেশি হয়ে গেছে যে একটা রুটি দিয়ে মোড়াতে বেশ সমস্যাই হচ্ছিল। বন্ধুদের একজন বলল, এরপর আসার সময় নিজেরাই একটা বড় রুটি নিয়ে আসতে হবে। এনে বলতে হবে, আপনাদেরটায় না দিয়ে এইটাতে দেন।

কিন্তু সমস্যা হল পরে। দোকানদার ভুল করে আমার স্যান্ডউইচ দিল আরেক বন্ধুকে আর তারটা দিল আমাকে। ততক্ষণে ও খাওয়া শুরু করে দিয়ে। বলতেছে, ইট ইজ সো গুড। উই শুড কাম হিয়ার এগেইন। আমরাও তার কথায় সায় দিলাম।

আমার অন্য বন্ধু বলল, মঞ্জি সবচেয়ে ভাল অর্ডার করছে। হি ডিড দ্যা বেস্ট জব। আমি বললাম, লাভ হয় নাই তাতে। আমারটা তো ও খাইতেছে। অবশ্য আমি যে র‍্যাপটা পেয়েছি সেটাও একেবারে ছোট না।

খাওয়া শেষে আমরা ঠিক করলাম আমরা এখন থেকে প্রত্যেক সোমবার ঐ দোকানে খেতে যাব। মানডে আনলিমিটেড নামে একটা কালচার শুরু করে দিব। যদিও এইসব পরিকল্পনা কথাতেই থেকে যায়, পরে আর করা হয়না কখনও।

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন