বাসা বদল

১ বছরের ভিতর পঞ্চমবারের মত বাসা বদলের রেকর্ড করে ফেললাম আজকে।

ব্রিটেনে এসে প্রথম উঠেছিলাম হেডিংটনে। সেখান থেকে অক্সফোর্ডের দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার। তাই কলেজ যখন একোমোডেশন অফার করল দেরী না করে সাথে সাথে বাসা বদলে কলেজের একোমোডেশনে উঠে গেলাম।


বাসাটা ছিল ছোট্ট একটা লজ। নাম আকল্যান্ড লজ। কলেজের মেইন গ্রাজুয়েট একোমোডেশন আকল্যান্ডের পাশেই এটার অবস্থান। ছিমছাম আর রাস্তার একদম পাশে। বাসার মানুষগুলোও ভাল, খুব সহজেই বন্ধু হয়ে গেল। কিন্তু দেড় মাসের মাথাতেই আবার বাসা বদল করতে হল। কারণ লজে থাকার চুক্তি তিন মাসের আর আমি দীর্ঘমেয়াদে থাকার জন্য একটা বাসা চাই।

আমার তৃতীয় বাসাটা ছিল মেইন আকল্যান্ড সাইটে, সেখানে একটা রুম ফাঁকা থাকায় উঠে গেলাম। ভাবলাম এবার অন্তত ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত কোন ঝামেলা নেই। কিন্তু এবার ঘটল অন্য ঘটনা। কিবল কলেজ আকল্যান্ড সাইট ভেঙ্গে নতুন আধুনিক ভবন বানানোর সিদ্ধান্ত নিল। মার্চ মাসে বিল্ডিং ভাঙ্গার কাজ শুরু হবে। তাই আমাকে চতুর্থবারের মত বাসা বদলাতে হল। এবারের বাসাটা উডস্টক রোডে।

উডস্টক রোডে এসে অবশ্য খুশি হলাম। বাসার কোয়ালিটি আগেরটার থেকে অনেক ভাল কিন্তু ভাড়া একই কারণ কলেজ আমাদের সরিয়ে এখানে এনেছে। তিনতলা বাসায় মাত্র দু'টো বেডরুম। আর বাসাটা নতুন করে রেনোভেট করা তাই সবাই নতুন ব্যবস্থায় খুশি হল। ও হ্যাঁ একটি কথা বলা দরকার, আকল্যান্ড লজ, আকল্যান্ড সাইট আর উডস্টক রোড মূলত একই জায়গায়। একটি থেকে আর একটিতে যেতে ১ মিনিট লাগে। তাই বাসা পরিবর্তনকে কিছুই মনে হয়নি। তাছাড়া উডস্টক রোডে আসার সময় কলেজই সব মালামাল নিয়ে গিয়ে দিয়েছে আমাদের কিছু করতে হয়নি।

আজকে জুন মাস শেষ। তাই কলেজের সাথে একোমোডেশনের মূল চুক্তিও শেষ। গ্রীষ্মকালে একোমোডেশনের জন্য আলাদাভাবে এপ্লাই করতে হয়। কারণ এসময়ের মাঝেই অনেকের কোর্স শেষ গেছে। আমার কোর্স সেপ্টেম্বরে শেষ তাই গ্রীষ্মে এখানে থাকতে হবে।

গ্রীষ্মে থাকার ব্যবস্থা হয়েছে কলেজের মেইন সাইটে। উডস্টক রোডের বাসা থেকে এখানে হেঁটে আসতে পাঁচমিনিট লাগে। এরমধ্যে কিছু জিনিসপত্র নিয়ে নতুন রুমে উঠে পড়েছি। কাল বাকি জিনিসপত্রগুলোও আনতে হবে। বিকেলে ল্যাব থেকে বাসায় ফিরে এত ক্লান্ত ছিলাম যে আর কিছু করতে ইচ্ছা হল না। তবে আগের বাসার হাউসমেট বলল কলেজ থেকে তাকে নাকি বলেছে মালামাল তারাই নতুন বাসায় এনে দিবে। তাই আমিও ভাবতেছি বাকি জিনিস কলেজই এনে দিক।

এইভাবে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এই বছর পর্যন্ত পাঁচটা বাসায় থাকলাম। সারাজীবনে বাসা বদলিয়েছি পাঁচবার, আর ব্রিটেনে এসে একবছরেই পাঁচবার। ভবিষ্যতে কি আছে কে জানে।

তবে একটা ব্যপার ভাবতে ভালই লাগতেছে। গ্রীষ্মের এই কয়দিন অন্তত কলেজের ছিমছাম ভবনে থাকা হবে। কিবল কলেজের লন কিন্তু অন্য অনেক কলেজের লনের থেকে সুন্দর।

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন