রচনা

স্কুল কলেজের পর রচনা লেখা তেমন একটা হয়নি। ঢাকা ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট ইয়ারে ইংরেজী কোর্সে একটা রচনা লিখতে হয়েছিল। বেশ কয়েকটা অপশনের মধ্যে আমি লিখেছিলাম 'যে ব্যক্তি তোমার জীবনকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে' এই বিষয়ে। ঐ শেষ। এরপর আর কোন ইয়ারে রচনা লেখার ব্যপার ছিল না।


কিন্তু বর্তমান যে মাস্টার্স কোর্স করছি সেখানে শুধু রচনা আর রচনা। প্রথম টার্মে একটি কোয়ালিফিকেশন পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার প্রশ্ন বলতে চারটি মডিউলের উপর চারটি রচনা। বাকি দুই টার্মে কোন পরীক্ষা নেই। দুই টার্মে দু'টো রিসার্চ প্রজেক্ট, চারটি এডভান্সড মডিউল আর জার্নাল ক্লাব। রিসার্চ প্রজেক্টে দু'টোর উপর দু'টো ডিজার্টেশন আর চারটি এডভান্সড মডিউলের জন্য চারটি বড় আকারের রচনা লিখে জমা দিতে হয়। অর্থাৎ পুরো জীবন এখন রচনাময় হয়ে গেছে।

যেহেতু মৌলিক রচনা লিখতে হয়, তাই পড়ে গবেষণা করেই লেখার গঠন দাড় করাতে হয়। এরপরে একটা টাইটেল ঠিক করে মডিউল অর্গানাইজারের কাছে এপ্রুভ করায় নিতে হয়। তারপর ধীরে ধীরে সেটা লেখা। কেউ একমাস সময় ধরে একটা রচনা লিখে। অলসেরা শেষের সপ্তাহে তড়িঘড়ি করে লিখে।

আজকে সুপারভাইজার জিজ্ঞেস করতেছিল, তুমি ফ্রি নাকি ব্যস্ত? রচনা লিখা চলতেছে? আমি বললাম রচনা লিখা সবসময় চলে। এটা একটা অনগোয়িং প্রসেস। এই নিয়ে পরে হাসি ঠাট্টা হল।

আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে রচনা লেখার কিছু অভ্যাস করানো হলে ভাল হত। অন্তত লেখার হাত ভাল হত সবার।

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন