একটি অলস বিকেলের গল্প

আজকে বিকেলে ক্রিকেট খেলতে যাওয়ার কথা ছিল। কিবল কলেজের মাঠে খেলা। জায়গাটি আমার বাসা থেকে বেশ কিছুটা দূরেই বলা যায়। দূরত্বের কথা চিন্তা করে আলসেমিতে আর যাওয়া হল না। ইউনিভার্সিটির মাঠে খেলা হলে সুবিধা। বাসার পাশেই। হাটতে হাটতে গিয়েই খেলে আসা যায়।


খেলতে যাওয়া না হওয়ায় পার্ক থেকে আধাঘন্টা দৌড়ে আসলাম। দৌড় আর ধ্যান হচ্ছে মানসিক চাপ দূর করার সবচেয়ে ভাল উপায়। কারণ দু'টিতেই শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রনে রাখার প্রাকটিস হয়। রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। মাথায় অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এ কারণে মনোযোগও বাড়ে। মনমেজাজ ফুরফুরে থাকে। তাছাড়া পার্কে গিয়ে বসন্তের ঝিরিঝিরি বাতাস গায়ে লাগাতে ভালই লাগে।

ইদানীং হালকা রোদ আর গরম থাকায় সব মানুষজন পার্কে গিয়ে বসে থাকে। অনেকে ঘাসের উপর চিত হয়ে শুয়ে বই পড়ে। অনেকে এমনি এমনি শুয়ে থেকে আকাশ দেখে। এরমধ্যে যুগলেরা থাকে, কিছু পরিবারও থাকে। আবার অনেকে দলবল নিয়ে এসে নদীতে নৌকা চালায়। লগি দিয়ে নৌকা চালানো বা পান্টিং অক্সফোর্ডের একটা ট্রেডিশান।


ঘড়িতে এখন আটটা বাজে। সূর্য পুরোপুরি ডোবেনি। কিছুটা রোদও আছে বাইরে। নয়টার সময় সন্ধ্যা হবে। আগে কখনো এত বড় দিন দেখার অভিজ্ঞতা না থাকায় ব্যপারটা খুবই অদ্ভুত লাগতেছে। ভাবতেছি জুন মাসে কি হবে, যখন রাত এগারোটায় সূর্য ডুববে!

ড্রসোফিলা মাছির উপর এক গবেষণায় (২০০৫/০৬ সাল হবে) দেখা গেছে ইউরোপিয়ান মাছিদের জীবনে দিন-রাতের দৈঘ্যের প্রভাব বেশি পড়ে না। যদিও, আফ্রিকান ও এশিয়ান মাছিরা দিনের কোন সময় এক্টিভ থাকবে আর কোন সময় ঘুমাবে সেটা সূর্যের আলোর উপর অনেকবেশি নির্ভর করে। ইউরোপিয়ান মাছিদের মধ্যে এলএসটিম নামক একটা জিন থাকায় তাদের মুড সূর্যের উপর তেমন একটা নির্ভরশীল নয়। এটা তাদের জন্য সুবিধা কারণ, ইউরোপে কখনও দিন অনেক বড় আর কখনও অনেক ছোট হয়। কিন্তু অন্যরকম জিন থাকায় এখানকার মাছিরা এই পরিবেশের সাথে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে।

মানুষের ক্ষেত্রেও এমন কোন জিন নিশ্চয় আছে। আবহাওয়া একটু খারাপ হলে আমার মুড খুব খারাপ হয়ে যায়। আর রোদ উঠলে, গরম থাকলে চনমনে লাগে। কিন্তু ইউরোপিয়ান বন্ধুদের মুডের উপর আবহাওয়ার কোন প্রভাব নাই। তারা সব সময়ই এক। তারমানে তাদের আমার আর তাদের জিনের ভিতর কিছু একটা আলাদা আছে।

লেখাটা শেষ করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে প্রায়। যাই, দিন থাকতেই ডিনার করি।

মঞ্জিলুর রহমান
কিবল কলেজ, অক্সফোর্ড

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন