বাইসাইকেল

অক্সফোর্ড শহরের প্রধান বাহন বাইসাইকেল। ছেলে-মেয়ে, যুবক-বৃদ্ধ, ছাত্র-শিক্ষক সবাই সাইকেলে চলাফেরা করে। ব্যপারটা দেখতে ভালই লাগে। কোন ছেলে স্যুট পরে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে অথবা কোন মেয়ে পার্টি ড্রেস পরে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে এটা এখানকার নিয়মিত দৃশ্য।

আমার বাসা থেকে ক্লাস, কলেজ, ল্যাব সবকিছু হাঁটার দূরত্বে। সর্বোচ্চ ১০ মিনিট হাঁটতে হয়। তারপরও একটা সাইকেল কিনে রেখেছি। ইমার্জেন্সিতে কাজে লাগে। এই যেমন গতকাল দুপুর একটার ল্যাব মিটিংয়ের কথা আমি একদম ভুলে গিয়েছিলাম। ল্যাবয়ের একজন ফেসবুকে নক দিয়ে বলল, তুমি আসবানা। আমি তখন কলেজে লান্স করছি। তাড়াহুড়ো করে খেয়ে দেয়ে বের হলাম। এইসময় সাইকেলটা থাকায় বেশ উপকার হল। ২ মিনিটেই পৌঁছে গেলাম ল্যাবে।

সাইকেল রাখার সুবিধার জন্য বিভিন্ন জায়গায় র‍্যাক তৈরি করে রাখা আছে। জোর নজরদারিরও ব্যবস্থা আছে। সাইকেল চুরি হওয়াটা নাকি ঢাকার মতই স্বাভাবিক ব্যপার এখানে।

এখানে আসার কিছুদিন পর আমাদের গ্রাজুয়েট একমোডেশনের সামনে ক্রিসকে দেখে থামলাম। ওকে বেশ দুঃচিন্ত দেখালো। কাছে গিয়ে জিজ্ঞাস করলাম, কি হয়েছে। ও দেখালো ওর সাইকেলের সিট কেউ একজন চুরি করে নিয়ে গেছে। তবে চোর তার নিজের সিটটি রেখে গেছে ক্রিসের ব্যবহারের জন্য। ক্রিস বলল, দেখত কান্ড। আমার সিটটা এই সিটের থেকে তেমন ভাল ছিল না। হয়ত কোয়ালিটি একটু ভাল ছিল। কিন্তু চোর এত রিস্ত নিয়ে কেন সেটা অদল-বদল করল বুঝলাম না।

এই হচ্ছে অক্সফোর্ডের সাইকেল চোরদের ব্যপার। সাইকেল চোরের কথা আসলে আমার নিজের সাইকেল চুরির কাহিনী বলতেই হয়।

২০১৩ সালে ঢাকায় তখন অনার্স ফোর্থ ইয়ারে পড়ি। রোযার মাসে একটা সাইকেল কিনলাম। র‍্যালে ব্রান্ডের সাইকেল মডেল টেইলাস টু। মূল্য বিশ হাজার টাকা মাত্র। অনেক শখ করেছিলাম সাইকেলটা। ইউনিভার্সিটিও যাওয়া আসা করতাম সেটাতে করে।

কিন্তু একসাম যেতে না যেতেই একদিন বাসার নিচে নেমে দেখি পার্কিং থেকে সাইকেল উধাও। বাসা থেকেই সাইকেল চুরি হয়ে গেছে। খুব দুঃখ পেয়েছিলাম ব্যপারটা নিয়ে। এই শোকাক্রান্ত ছিলাম যে, সেই শোক কাটতে আরও একমাস লেগে যায়।

এই খানে ওই সাইকেলের একটা ছবি দিয়ে দিলাম।

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন