অক্সফোর্ডে মে দিবস

গতকাল মে দিবস বিষয়ে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম একটা ছবিসহ। ছবিটি আমিই তুলেছি। সাথে সাথে কয়েকটা ভিডিও করেছি। ভিডিওগুলো আমার ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগে (monzilurrahman.wordpress.com) শেয়ারও করেছি। এখানে আবার সেগুলো শেয়ার করছি। প্রথমে ফেসুবুকের স্ট্যাটাসটিঃ

আন্তর্জাতিক শ্রমিক অধিকার দিবস হিসেবে এই দিনটি সারা বিশ্বে পালিত হয়। আমাদের দেশেও তাই। কিন্তু ইতিহাসের শূরুতে এই দিনটির সাথে শ্রমিক অধিকারের কোন সম্পর্ক ছিল না।
গত শতকে শিকাগোয় শ্রমিকদের আন্দোলনের ঘটনা স্মরণের জন্য এই দিনকেই বেছে নেওয়ার হয়। এরপর দিনটি হয়ে যায় আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস আর পুরানো মে দিবস আলাদা বিষয় যদিও দুটিকেই মে দিবস বলা হয়।

মে দিবস মূলত ছিল উত্তর গোলার্ধে বসন্ত উৎসবের দিন। পশ্চিমা দেশগুলোতে এখনও সেই পুরনো রীতি প্রচলিত আছে। তারা এখনও এই দিনে বসন্ত উৎসব পালন করে। উতসবে থাকে গান, নাচ আর অনেক ঐতিহ্যবাহী খাবার। ইংল্যান্ডের মে দিবসও ব্যতিক্রম নয়।

আজকে অক্সফোর্ডে বেশ ঘটা করেই পালিত হল মে দিবস। আয়োজনটা অনেকটা আমাদের দেশের বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানের মত।

সকাল বেলা ম্যাগদালেন (ইংরেজীতে বলে মডলিন, এই উচ্চারণটি এখানে আসার পর শিখেছি) কলেজের টাওয়ার থেকে কোরাস গাওয়া হয়। ভোর ৬টায় শুরু হয় এই আয়োজন। শহরের সব মানুষ টাওয়ারের নিচে সমবেত হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা শোনে। আজকের কোরাসের কয়টা ভিডিও শেয়ার দিচ্ছি আমার ওয়ালে। ভিডিও থেকে দেখে নিতে পারেন কেমন ছিল আজকের কোরাস।

এছাড়াও রাস্তায় রাস্তায় থাকে মোরিস ডান্স। এটা একধরণের ঐতিহ্যবাহী নাচ। আমি নিজে রাস্তায় একটা দলের নাচের কিছু ভিডিও করেছি। পরে সেটা আপলোড করব।

রোম সাম্রাজের মানুষজন খেয়াল করেছিল, বসন্ত আসলেই গাছগুলো ফুলে ফুলে ভরে যায়। ফলে তারা বসন্তের শুরুতে ফুলের দেবীর বন্দনা শুরু করে। সেসময় তারা ফ্লোরেলিয়া নামে একটা অনুষ্ঠান করত ফুলের দেবীর উদ্দেশ্য। সেই অনুষ্ঠান পালিত হত ২৭ এপ্রিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এটা একটা ধর্মনিরপেক্ষ অনুষ্ঠানে পরিণত হয় এবং পহেলা মেতে সবধরণের মানুষ এই উদযাপনে অংশ নেয়।

মে দিবস তাই একই সাথে শ্রমিক দিবস এবং বসন্ত দিবস।

সবাইকে মে দিবস ও বসন্তের শুভেচ্ছা!


এরপর ইউটিউব ভিডিওগুলো।
ভিডিও ১ঃ বোদলিয়ান লাইব্রেরী অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সেন্ট্রাল লাইব্রেরী। এর সামনে কাল একদল লোক ঐতিহ্যবাহী একটা নাচ নাচছিল। সম্ভবত এটাকে মরিস ডান্স বলে। নাচের একপর্যায়ে তারা সবাইকে আমন্ত্রণ করল তাদের সাথে যোগ দিতে। এই ভিডিওতে জনগণের অংশ নেওয়া নাচটাই ধারণ করেছি আমি।




ভিডিও ২ঃ রাস্তায় হাটাহাটি করার সময় সিটি সেন্টারে এই লোকটিকে দেখলাম অভিনব মনে হল তার পারফরমেন্স। তাই সেটিও ভিডিও করলাম।


ইউটিউবে আমার ভিডিও নিয়মিত দেখতে দয়া করে আমার চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন। সাথে সাথে আমার গুগল প্লাস একাউন্টকেও ফলো করুন (লিংক ব্লগের ডান দিকে সাইডবারে পাবেন)।

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন