পরীক্ষা প্রস্তুতি

একথা সত্য যে নলেজ ইজ পাওয়ার। তবে অন্য সব ক্ষমতার মত নলেজ বা জ্ঞানের ক্ষমতাও নির্ভর করে সেটাকে কিভাবে ব্যবহার করা হবে তার উপর। পরীক্ষার হল এর একটা বড় উদাহরণ। এজন্য কারও অনেক কিছু জানা থাকার পরও সে পাশ করেনা আর অনেক অল্প জেনেই ভাল ফলাফল করে। জানা বিষয়কে পরীক্ষার স্বল্প সময়ে উপস্থাপন করাটাই এখানে মূখ্য। যে সেটা করতে পারবে সে ভাল করবে। যে করতে পারবে না সে খারাপ করবে। সারা জীবনের পড়াশুনার ফলাফল নির্ভর করে ঐ তিন ঘন্টার পরীক্ষাগুলোর উপর।


পরীক্ষায় ভাল করতে হলে শুধু পড়লেই হবে না। অনুশীলন করতে হবে, সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। নতুন কিছু পড়লেই ভাবতে হবে কি কি কনসেপ্ট আছে সেখানে। সেই কনসেপ্ট ব্যবহার করে কি কি বিষয় ব্যাখ্যা করা যায়। একটা বিষয় পড়ার সময় চিন্তা করতে হবে সেখান থেকে কি প্রশ্ন হতে পারে। আমার একজন ছাত্র বিজ্ঞানে অনেক দূর্বল ছিল। এমন না যে সে পড়াশুনা করত না। সে অনেক কিছুই জানত কিন্তু পরীক্ষার হলে প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলেই তার সব এলোমেলো হয়ে যেত। তো এই সমস্যা দূর করার জন্য আমি তার সাথে বসে একটা রিভিশন রুটিন ঠিক করলাম। তার কাজ হবে প্রতিদিন ১ ঘন্টা করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বই পড়া এবং তারপর বিগত পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর করা। পড়ার সময় বইয়ের যে জায়গাটুকু পড়ছে সেখান থেকে ১০টি প্রশ্ন করে আমাকে দেখাবে। আর বিগত বছরের প্রশ্ন থেকে ১০টি উত্তর করে দেখাবে। স্ট্রাটেজিটা ছিল প্রশ্ন থেক উত্তর করা এবং উত্তর থেকে প্রশ্ন করা।

প্রশ্ন => উত্তর; উত্তর => প্রশ্ন।

তো এতে কিছুদিনের মধ্যে ঐ ছাত্রের অনেক উন্নতি হল। এরপর অবশ্য সে স্ট্রাটেজিটা একটু পালটিয়ে ফেলল। বই পড়ার সময় এখন আর কোন প্রশ্ন লিখে রাখতে হয় না। সে মনে মনে ভাবতে পারে কোন কোন প্রশ্ন করার যায় নির্দিষ্ট চ্যাপ্টার থেকে। এতে ওর ক্রিটিক্যাল থিংকিং অনেক বেড়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত সে এ স্টার পায় সায়েন্সে।

শুধু ভাল প্রস্তুতি থাকলেই চলবেনা। পরীক্ষার হলে ভাল পারফর্ম করতে হবে। এজন্য মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে সবার আগে। 'জাস্ট চিল'। আমি সাধারণত পরীক্ষার সময় গান গাই অথবা চকলেট খাই। এতে আমার মনে হয় নিজের ঘরেই বসে আসি। অনেকে অন্যভাবে পরীক্ষার হলের সিচুয়েশনের সাথে অভ্যস্থ হয়। যেমন- পরীক্ষার হলে একটু আগে ভাগে গিয়ে আশেপাশের মানুষজনের সাথে সৌজন্য বিনিময় করে। পরিস্থিতি নাকি তাতে একটু স্বাভাবিক মনে হয়। আমার অবশ্য এতে লাভ হয় না। তো ব্যপার হল, যেভাবেই হোক নিশ্চিত করতে হবে নিজের পারা প্রশ্নর উত্তর দিতে যাতে ভুল না হয়। কোন প্রশ্নের উত্তর না পারলে সেটার উত্তর করা তো আর আপনার হাতে নাই। কিন্তু যা পারেন তা লিখে আসতে না পারাটা একটা আফসোস।

সবশেষে সব পরীক্ষাই একটা 'পরীক্ষা' । জীবন হচ্ছে একটা বড় পরীক্ষা। এর কোন পরীক্ষায় পাশ হবে, কোন পরীক্ষায় ফেল। তবে পাশ অথবা ফেল যাই করেন একটা জিনিস ভেবে দেখাটা জরুরী যে, সেই পরীক্ষার অভিজ্ঞতায় আপনি নতুন কি কি শিখেছেন। সেটাকে কিভাবে ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে পারেন। যেমন- পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে হয়ত আপনার লেখার দক্ষতা অনেক বেড়ে গেছে তখন সেটাকে ব্যবহার করে আপনি ফ্রিল্যান্স রাইটার হয়ে যেতে পারেন। কারণ দিনশেষে আপনার নিজের জীবনের ভার আপনাকেই নিতে হবে। ফেল করলেও জীবন চালিয়ে যেতে হবে। অন্যকে ব্লেম করে, সিস্টেম কে দোষ দিয়ে, বা কোটার বিষাদ্গার করে আপনার চাকরি হবে না। ব্যর্থ হলেও ভাবতে হবে সেই অবস্থায় কি করা যায়। যে বিপদের সময় নতুন করে কিছু করতে পারে দিনশেষে শেষ হাসিটা তারই হয়।

মঞ্জিলুর রহমান
কিবল কলেজ, অক্সফোর্ড

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন