অক্সফোর্ডে এক্সচেঞ্জ ডিনার

বিকেল বেলা ল্যাব থেকে বাসায় ফিরছি। কলেজ বিল্ডিঙয়ের পাশ দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় দেখলাম পল সুট পরে কলেজের দিকে যাচ্ছে। ভাবলাম কাহিনী কি? এই বিকেল বেলা সে এত সুন্দর কাপড় চোপড় পরে ও কোথায় যায়! আমি হাত নেড়ে হাই জানালাম। সে ও হাত নাড়লো।



একটু সামনে এগোনোর পর মনে পড়ল আসল কাহিনী কি। সেরেছে। আমারো তো ওইখানে যাওয়ার কথা। কিলোগ কলেজের সাথে এক্সচেঞ্জ ডিনারের ফিরতি লেগ আজ। তখন ঘড়িতে ৬ঃ৩৬ বাজে। ৬ঃ৩৫ মিনিটেই কিবল কলেজের পোর্টার লজ থেকে সবার কিলোগ কলেজের দিকে রওয়ানা দেওয়ার কথা। ৬ঃ৪৫ এ কিলোগ কলেজে পৌঁছাতে হবে। দৌড় দিলাম বাসার দিকে। রুমে গিয়ে শুধু জ্যাকেট চেঞ্জ করে একটা ব্লেজার পড়লাম তারপরেই কিলোগ কলেগজের দিকে দৌড়।

আমি যেখানে থাকি (উডস্টক রোড) সেখান থেকে কিলোগ কলেজে যেতে ৪-৫ মিনিট লাগে। কিলোগ কলেজে পৌছায়ি দেখি সবাই অলরেডি সেখানে। বেশি দেড়ি হয়নি। আসার সময় কুইন্সিকে ফোন দিচ্ছিলাম সে যেন সবাইকে আমার জন্য আটকিয়ে রাখে। কিন্তু দেখা গেল কুইন্সি আসলো আমারো পরে। পলের সাথে দেখা হলে সে বলল, তোমার সাথে দেখা হওয়ার দুইমিনিট পরেই আমার মনে পরল ওর ও তো আসার কথা। সে যায় কোথায়।

খাওয়া দাওয়া অবশ্য বেশ ভালই হল। স্টার্টারে উল্লেখযোগ্য কিছু না থাকলেও মেইনডিসে হাঁসের রোস্ট বেশ ভাল ছিল। এই ডিনারে না মিস করলে আসলেই আফসোস থেকে যেত। খাওয়া শেষে কিছুক্ষণ আড্ডা মেরে ফিরলাম বাসার দিকে।

উল্লেখ্য, অক্সফোর্ডে এক্সচেঞ্জ ডিনার বলতে বুঝায় এক কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা যখন অন্য কলেজের ডাইনিং হলে ডিনার করতে করতে যায়। তারপর অন্য কলেজটি আবার ঐ কলেজে ডিনার করতে আসে।
কিবল অর্থাৎ আমার কলেজের ফরমাল ডিনার হ্যারি পটারের মত। সবাই আগে থেকে বসে থাকে। ৭ঃ১০ এ ফেলোরা (শিক্ষকশ্রেণীর লোকজন) হলে ঢোকে। এরপর একটা বেঞ্চে বাড়ি মারা হয়। তখন সবাইকে দাড়াতে হয়। এসময় ল্যাটিন ভাষায় কোরাস গাওয়া হয়। তারপর সবাই বসে ডিনার করে। ডিনার শেষ হলেও কেউ বের হতে পারে না। ফেলোরা আগে বের হয়। তখন আবার সবাইকে দাড়াতে হয়। তারপর বাকিরা বের হতে পারে। হলে ডিনার করতে হলে গাউন পরা অত্যাবশ্যক।

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন