শিক্ষকের কানে ধরা

নারায়ণগঞ্জে একজন শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করানো হয়েছে। অজুহাত হিসেবে দেখানো হয়েছে তিনি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছেন। জাতি হিসেবে এটি আমাদের জন্য অনেক লজ্জার বিষয়। শুধু একজন শিক্ষককেই না, যে কাউকে কান-ধরে উঠবস করানোই অনেক অপমানের একটি বিষয়।


আমার মনে আছে, সেটা বোধ হয় ১৯৯৭ সালের কথা। কেবলই স্কুলে ভর্তি হয়েছি, ক্লাস টু'তে। বাংলা ক্লাসে বাড়ির কাজ হিসেবে হাতের লেখা জমা দিতে হত। ব্যপারটা ছিল এমন, বইয়ের প্রথম লাইনে লেখা থাকত, "সদা সত্য কথা বলিবে", তখন তার নিচের দশ লাইনে আবার একই কথা লিখে নিয়ে যেতে হত। মানে সদা'র নিচে দশবার সদা, সত্য'র নিতে দশবার সত্য, কথা'র নিচে দশবার কথা, আর বলিবে'র নিচে দশবার বলিবে লিখতে হত। যত দূর মনে পরে, স্কুল শুরুর দ্বিতীয় সপ্তাহে একদিন আমি স্কুলে গিয়ে ব্যাগ খুলে দেখি বাড়ির কাজ আনতে ভুলে গেছি। স্কুল থেকে আমার বাড়ি এত দূরে যে বাড়ি গিয়ে নিয়ে আসব সে উপায় নেই। দুশ্চিন্তা শুরু হয়ে গেল। ক্লাসে কি শাস্তি পেতে হবে কে জানে! টিচার সেদিন শাস্তি দিলেন পুরো ক্লাস বারান্দায় থাকতে হবে, কান ধরে হাটু গাড়া অবস্থায়। সেটিই ছিল আমার জীবনের প্রথম কানধরার ঘটনা। খুব অপমানিত বোধ করেছিলাম সেদিন। রাগে-ক্ষোভে মাথা হেট হয়ে গিয়েছিল। তারপর ধীরে ধীরে দেখলাম সবাই কোন না কোন দিন কান ধরে। আর অন্যদের কাছ থেকে একটা বিষয় শিখে গেলাম, বন্ধুদের সামনে কান ধরায় লজ্জার কিছু নেই। এভাবে একসময় কান ধরতে আমারো আর লজ্জা করত না।

শিক্ষককে সবার সামনে কানধরে উঠবস করানোর ঘটনায় আমার সেদিনের কানধরার কথা মনে পড়ে গেল। আমি অতটুকু বাচ্চা হয়েই যদি অপমানে আমার মাথা হেট হয়ে থাকে, তাহলে বয়স্ক একজন প্রধান শিক্ষকের কি অনুভূতি হয়েছে ভাবতেই গায়ে কাটা দিয়ে উঠে। একজন শিক্ষককে এভাবে অপমান করার কি অর্থ? তারমানে অন্যদের সম্মান করার ব্যাপারটা কি দিন দিন আমাদের সমাজ থেকে উঠে যাচ্ছে?

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন