শুভ নববর্ষ

বাংলা ১৪১৪ থেকে ১৪২২ সাল পর্যন্ত (২০০৭-২০১৫ ইং) প্রায় প্রতিটি নববর্ষই কেটেছে ঢাকা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে। সকালে চারুকলা, তারপর কার্জন হল, বিকালে আর সন্ধ্যায় বুয়েটের আর্কিটেকচার। এই ছিল বাংলা বছরের প্রথম দিনের রুটিন। এবারে এসে সেই রুটিনটির ব্যাতিক্রম হল। একেবারেই কোন উদযাপন নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠলাম। নাস্তা করে এখন ল্যাবে যাব।

 
উদযাপন না থাকলেও বছর তো শুরু হল। সেই উপলক্ষে সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।

জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এই একটা উৎসবই বাঙালিদের উৎসব। বাঙালিদের কখনও জোড় করে একই রঙের একই ধরণের কাপড় পড়ানো যায় না। স্কুলে ইউনিফর্ম থাকলে সেটাও সবাই পরতে চায় না। সবাই নিজেকে আলাদা দেখাতে চায়। আর গ্রীষ্ম প্রধান দেশ হওয়ায় নীল-সবুজ-হলুদ বিভিন্ন রঙের পোশাক পড়ায় অভ্যস্থ আমরা। অন্তত এই একটা দিন লাল-সাদা রঙের পোশাকে সব মানুষকে ঢাকার রাস্তায় দেখা যায়। অন্যসময়ের হিজিবিজি দৃশ্যের জায়গায় এটা চোখ জুড়ানো একটা দৃশ্য।

অনেকে নববর্ষের সকালে পান্তাভাত খাওয়াকে দোষনীয় মনে করে। যে এটা নিজেকে একদিনের বাঙালি বানানো। কিন্তু আমরা তো প্রতিদিনই বাঙালি। বিশেষ দিনে এই একটা কাজ করার উদ্দেশ্য হল আমাদের শিকড়কে খোঁজার চেষ্টা। নিজেদের অতীতকে ধরে রাখার চেষ্টা। প্রতিদিন পান্তাভাত খাওয়া বাস্তবিক না। অন্তত একটা দিন পান্তা ভাত খেয়ে মানুষের যদি মনে পড়ে অন্য জাতি থেকে তাদের স্বকীয়তা কি তাহলে ক্ষতি কি?

শুভ নববর্ষ।

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন