আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিষয়ক দুঃশ্চিন্তা

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ভবিষ্যত কি? যে দ্রুত এই ফিল্ড আগায় যাচ্ছে তাতে খুব দ্রুতই বোধ হয় মানুষের সমান বুদ্ধিমত্তার কম্পিউটার তৈরি হবে। সব বড় বড় কোম্পানি গুগল, মাইক্রোসফট, এমনকি এনভিডিয়াও এই বিষয়ে গবেষণা ও বিনিয়োগ করছে। করবেই না কেন এটাই যে হতে যাচ্ছে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি।

সায়েন্স ম্যাগাজিনের প্রতি সংখ্যায় একটা না একটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার খবর থাকবেই। এই বিষয়টা বিশ্ববিদ্যালয়ে কত জনপ্রিয় তা বোঝা যায় কম্পিউটার সায়েন্সের ছেলেদের রিসার্চ ইন্টারেস্ট চিন্তা করলে। ভাবেন তো, ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ের সবচেয়ে মেধাবীদের কত ভাগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করে? উত্তর হল তারা সবাই। এই যখন অবস্থা এই ফিল্ড যে হু হু করে দ্রুত বেগে আগাবে তাতে সন্দেহ নাই।



যতটুকু বুঝলাম বর্তমানে এআই এর ব্যবহার সেলফ ড্রাইভিং কার ও গেমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, হয়ত আর বেশিদিন নাই যখন দৈনন্দিন জীবনেও এর ব্যবহার শুরু হবে। তৈরি হবে উন্নত 'জেনারেল পারপাজ আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স'। ডিপ মাইন্ডের আলফাগো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন লি সিদলকে হারানোর পর প্রযুক্তি সেদিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। 'জেনারেল পারপাজ আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স' এলগরিদমের উন্নতিতে রিস্ক আছে একদিন মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমত্তার কম্পিউটার তৈরি হয়ে যাওয়ার। তখন হয়ত সায়েন্স ফিকশন মুভির মত সব মানুষকে ধ্বংস করে রোবটরাই রাজত্ব করবে পৃথিবীর।

এলন মাস্ক অবশ্য মনে করেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মানুষের মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপন করা উচিৎ। তাহলে পৃথিবীতে কোন দূঘর্টনায় মানব সভ্যতা বিপন্ন হলেও বেঁচে থাকবে মঙ্গলের লোকজন অথবা ভাইস ভার্সা। অর্থাৎ আমাদের উচিৎ মাল্টিপ্লানেটারি স্পিসিস হয়ে যাওয়া। আমরা এখন যেহেতু শুধু নিজ গ্রহ পৃথিবীতেই সীমাবদ্ধ তাই আমরা ইউনিপ্লানেটারি। তো অন্য আর একটা গ্রহে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলেই আমরা মাল্টিপ্লানেটারি লেভেলে উন্নিত হব। এই জন্যে মিঃ মাস্ক স্পেস ব্যবসায় (তারা এখন সবচেয়ে ভাল রকেট বানায়) উঠেপড়ে লেগেছেন।

কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি আমাদের আরও একটা দিকে গবেষণা এগিয়ে নেয়া দরকার। ইলেকট্রনিক ব্রেন ইন্টারফেস তৈরি। যাতে একটা যান্ত্রিক শরীরের সাথে মানুষের মস্তিষ্ক জুড়ে দেওয়া যায়। এতে রোবটের সাথে যুদ্ধের ক্ষেত্রে মানুষ অন্তত একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাবে।

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন