নেশাময় সন্ধ্যা

গ্রীষ্মের ছুটিতে এখন বাড়িতে আছি। দিন গুলো খুব মজ়ায় কাটছে বলবনা। তবে এই কথাটিকে মিথ্যা প্রমাণ করতেই বোধ হয় উঠে পড়ে লেগেছিল আজকের সন্ধ্যার প্রকৃতি।

শেষ বিকেলে বাড়ির বাইরে বেরুলাম আশপাশ একটু ঘুরে দেখব বলে। সূর্য ডুব ডুব করছে। পরিবেশটা দারুণ। শিরশিরে শীতল বাতাস গায়ে এসে লাগতেই একেবারে যেন রিচার্জর্ড হয়ে গেলাম।

হাটছি মেটো রাস্তায়।

দু'দিকে জমি গুলোর ধান কাটা হয়ে গেছে। এখন ধান গাছের গোড়ার অংশগুলো অবশিষ্ট আছে। একটা পাটক্ষেতও আছে। আর পাটক্ষেতের বিপরীতে রাস্তার অপর পাশে একটা সবজি বাগান। এদিকের বেশির ভাগ জমি অবশ্য আমাদের অথবা আব্বুর বড় ভাইদের।

সূর্য ডুবে গেছে। সন্ধ্যা নামছে। আমি গিয়ে বসে পড়লাম রাস্তার এক পাশে। রাস্তার এই অংশটায় কিছু ইউক্যালিপ্টাস গাছের একটা সারি। ৬-৭ টা গাছ একসাথে দাড়িয়ে। কিছু দূর পর একটা শিমুল গাছ।

সন্ধ্যা এখন পুরোপুরি। চাঁদ উঠে গেছে। বাঁকা চাঁদ। পাঁচ দিন বয়স হবে হয়ত। চাঁদ দেখলেই আমি রোমান্টিক হয়ে যাই। বোধ হয় সবাই তাই হয়। আমি দাড়িয়ে পড়ি। রাস্তার মাঝে দাড়িয়ে গাছগুলোর ফাক দিয়ে তাকাই চাদের দিকে। তার সৌন্দর্য যেন এবার আমাকে নেশাযুক্ত করে তোলে।

সময় একটু গড়িয়ে যেতেই তারারা সঙ্গ দেয় চাঁদকে। আমি আর নিচে নামাতে পারি না চোখ। মনটা ভরে গেল। সময় যাচ্ছে আর সুন্দরের গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছি। জ়ন কিটসের কবিতার মত বলতে হয় সৌন্দর্য কখনও শেষ হয়ে যায় না শুধু বাড়ে।

"A thing of beauty is a joy for ever:
Its loveliness increases; it will never
Pass into nothingness; but still will keep
A bower quiet for us, and a sleep
Full of sweet dreams, and health, and quiet breathing." এর পর আর কিছু বলার কোন দরকার আছে বলে মনে হয় না।

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on FacebookTweet on TwitterPlus on Google+


ইমোটিকনইমোটিকন